মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লেবু বাগানে বন্যশুকর প্রতিরোধে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুনীল সাঁওতাল নামে এক শ্রমজীবী ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাধানগর কমিউনিটি ক্লিনিকের পেছনের পাহাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি ঘাস কাটতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত জিআই তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত সুনীল সাঁওতাল রাধানগর বস্তির মৃত রবিয়া সাঁওতালের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে বাড়ির পাশের আলী অর্জুনের লিজ নেওয়া একটি লেবু বাগানে ঘাস কাটতে যান সুনীল। তবে বাগানটির মূল মালিক শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান জরিপ। ঘাস কাটার একপর্যায়ে বাগানের চারপাশে টানানো কাঁচা জিআই তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, বাগানের ফসল রক্ষা ও পাহাড়ি বন্যশুকর প্রতিরোধে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। সকালে ঘাস কাটতে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা বাগানের ভেতরে একটি ছোট খালের পাশে বিদ্যুতের তারে জড়ানো অবস্থায় সুনীলের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের ছোট ভাই মুনিল সাঁওতাল বলেন, ঘাস কাটতে যাওয়ার পর অনেক বেলা হলেও ভাই বাড়ি ফেরেনি। পরে খুঁজতে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পাই।
৩ নম্বর সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, জিআই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাগানের ফসল রক্ষা ও পাহাড়ি শুকর প্রতিরোধে বিদ্যুতায়িত আর্থিং ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, লেবু বাগানে বিদ্যুতের তার পেতে রাখা হয়েছিল। ওই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম ও তদন্ত চলমান রয়েছে।
পুরুষদের আচরণে ক্ষুব্ধ ভূমি