বাংলাদেশ আবারও বিশ্বমঞ্চে গৌরবের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সাক্ষী হলো। কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তি উদ্ভাবক ও জাতিসংঘ স্বেচ্ছাসেবক শান্তিদূত প্রফেসর বিভাশ চন্দ্র পান্ডে মর্যাদাপূর্ণ ‘গ্লোবাল ওয়ার্কপ্লেস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেছেন। কানাডার টরেন্টো শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কপ্লেস লিডারশিপ ইনস্টিটিউট কানাডা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
টরন্টো এয়ারপোর্ট ম্যারিয়ট হোটেলে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘কর্মক্ষেত্রের রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট নেতা, উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি পরিণত হয় বৈশ্বিক জ্ঞান, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের এক মহামিলনমেলায়।
আয়োজকরা জানান, নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবকল্যাণে অসাধারণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রফেসর বি. সি. পান্ডে সম্মানিত হয়েছেন দূরদর্শী নেতৃত্ব, নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক কার্যক্রম, বৈশ্বিক একাডেমিক সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা, টেকসই উদ্ভাবন, মানবকেন্দ্রিক প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও কমিউনিটি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত প্রফেসর পান্ডে একজন শিক্ষাবিদ, মানবিক নেতা, গবেষক, লেখক ও প্রযুক্তি উদ্ভাবক। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি শিক্ষা, গণমাধ্যম, উচ্চপ্রযুক্তি উদ্ভাবন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। তিনি অনুপ্রেরণামূলক গ্রন্থ Harmony Within-এর রচয়িতা। বইটিতে মানবিক মূল্যবোধ, মানসিক সুস্থতা, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আত্মিক বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সাল হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন কানাডা এবং ইউনিভার্সাল গ্লোবাল ইনস্টিটিউট কানাডার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি টিজি এআই কানাডা, বিগ ক্লিনিক ফাউন্ডেশন কানাডা এবং সিএইচসি হাই-টেক সলিউশন কানাডা-এরও প্রতিষ্ঠাতা। তার নেতৃত্বে এসব প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সুস্বাস্থ্য, সাইবার নিরাপত্তা এবং নেতৃত্ব উন্নয়নকে একত্রিত করে বৈশ্বিক উন্নয়নে কাজ করছে।
প্রফেসর পান্ডের দূরদর্শী নেতৃত্বে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এ গড়ে উঠছে আন্তর্জাতিক মানের ‘আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্ভাবন ও সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা কেন্দ্র’। ইউনিভার্সাল হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন কানাডা, ইউনিভার্সাল গ্লোবাল ইনস্টিটিউট কানাডা, টিজি এআই কানাডা, বিআইজি ক্লিনিক ফাউন্ডেশন কানাডা এবং ওয়ার্কপ্লেস লিডারশিপ ইনস্টিটিউট কানাডার কৌশলগত সহযোগিতায় পরিচালিত এ উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রযুক্তি ও গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে গড়ে উঠছে ‘কানাডা–ইউরোপীয় ইউনিয়ন–যুক্তরাজ্য–আসিয়ান–বাংলাদেশ বৈশ্বিক একাডেমিক ও উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম’, যার মূল লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমন্বিত শিক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা ও গবেষণা, আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা, পেশাগত নেতৃত্ব উন্নয়ন, স্মার্ট প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক নীতি ও সুশাসন গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়া।
এছাড়া তার প্রতিষ্ঠিত ইউজিএপি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কানাডা, ইউরোপ, আসিয়ানভুক্ত দেশসমূহ, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি নেতাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রফেসর পান্ডে বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তি সবসময় মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। প্রযুক্তি, মনোবিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ, বুদ্ধিদীপ্ত ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি মেন্টরশিপ, শিক্ষা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেও তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই তার এই অর্জনকে বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের প্রতীক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্তর্জাতিক সম্মান শুধু প্রফেসর বি. সি. পান্ডের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের মেধা, সৃজনশীলতা ও মানবিক নেতৃত্বেরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তার সাফল্য প্রমাণ করে জ্ঞান, সততা, উদ্ভাবন এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।
