পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গাজীপুরসহ রাজধানী ছাড়ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সরকারি ছুটির দ্বিতীয় দিন ও অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের ব্যাপক ঢল নেমেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। ফলে মহাসড়কজুড়ে বেড়েছে যানবাহনের চাপ, কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে থেমে থেমে যানজট।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী, গাজীপুরা, বোর্ডবাজার, ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। একই সঙ্গে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কবীরপুর, সফিপুর, কালিয়াকৈর বাইপাস ও চন্দ্রা এলাকায়ও বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও অধিকাংশ স্থানে গাড়ি ধীরগতিতে চলছে।
ঈদযাত্রায় নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য পরিবহনে চড়ে গ্রামের পথে ছুটছেন মানুষ। অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনে করেও বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ঈদযাত্রায় ভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এছাড়া সড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা।
মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গাড়ি পার্কিং, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং মানুষের জটলার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত গাজীপুরে একযোগে কারখানা ছুটি হওয়ায় বিপুল সংখ্যক শ্রমিক সড়কে নেমে পড়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদযাত্রায় গাজীপুর থেকে ২০ লাখেরও বেশি শ্রমজীবী মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবেন। সোমবার প্রায় ৪৫ শতাংশ কারখানায় ছুটি হয়েছে এবং মঙ্গলবার দুপুরের পর আরও প্রায় ৪৫ শতাংশ কারখানা ছুটি হওয়ায় বিকেলের পর মহাসড়কে মানুষের চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, যানজট নিরসনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহনে যাতায়াত করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সাধারণ সময়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে এ সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। ফলে মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আগামী দু-একদিনের মধ্যে শিল্পাঞ্চলের বাকি কারখানাগুলো ছুটি হলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
