গরুর হাটে স্থান নির্ধারণ নিয়ে সংঘর্ষে ব্যবসায়ী নিহত, ইজারাদারের দাবি ‘স্ট্রোক’

আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

সাভারের আশুলিয়ায় একটি পশুর হাটে গরু বাঁধার জায়গাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শহীদুল্লাহ কায়সার (৫০) নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম গরুর হাটে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শহীদুল্লাহ কায়সার ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ি এলাকার মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শহীদুল্লাহ কায়সার তার ভাই ও ভাগ্নেকে সঙ্গে নিয়ে ১৮টি গরু বিক্রির জন্য পাড়াগ্রাম হাটে এসেছিলেন। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ১৪টি গরু বিক্রি শেষে বাকি ৪টি নিয়ে তাঁরা হাটে অবস্থান করছিলেন।

নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাসুদ রানা অভিযোগ করে বলেন, রাতে কয়েকজন ব্যক্তি এসে আমাদের নির্ধারিত জায়গায় জোরপূর্বক গরু বাঁধতে শুরু করে। আমার ভাগ্নে ফিরোজ কবির এতে বাধা দিলে হাটের কয়েকজন কর্মী ও কিছু বহিরাগত যুবক তাঁর ওপর চড়াও হয়। আমার ভাই শহীদুল্লাহ কায়সার বিষয়টি থামাতে গেলে তাকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এ সময় আমাদের কাছে থাকা গরু বিক্রির নগদ ৫ লাখ টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

মারধরের একপর্যায়ে শহীদুল্লাহ কায়সার অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ড ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাড়াগ্রাম হাটের ইজারাদার মোখলেছুর রহমান। তিনি দাবি করেন, ‌‘রাতে মূলত দুই পক্ষের বেপারিদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। আমাদের কর্মীরা কেবল সেই মারামারি থামাতে গিয়েছিল। যে ব্যক্তি মারা গেছেন, তিনি আগে থেকেই স্ট্রোকের রোগী ছিলেন। তাঁকে কেউ মারধর করেনি।’

আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী রেজাউল সংবাদমাধ্যমকে জানান, গরুর হাটে মারধরের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলটি আশুলিয়া থানা এলাকার অধীন হওয়ায় মূল আইনগত ব্যবস্থা আশুলিয়া থানা পুলিশ গ্রহণ করবে।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিহতের পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত