রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি পশুর হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ও মূল সড়কে গরু রাখাকে কেন্দ্র করে জনদুর্ভোগ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেশনের নিচে পশু বাঁধা, ট্রাক দাঁড় করানো এবং অস্থায়ী ঘের তৈরি করায় চলাচলে বিঘ্ন ও তীব্র যানজট তৈরি হয়। তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু ব্যবসায়ী সাময়িকভাবে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে কোনো হাট ইজারা দেওয়া হয়নি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন দিয়াবাড়ি পশুর হাট এবার রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও সর্বোচ্চ ইজারামূল্যের পশুর হাট হিসেবে জমে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাক ও নৌপথে বিপুল সংখ্যক কোরবানির পশু হাটে আনা হয়েছে। তবে হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে মেট্রোরেল স্টেশনের আশপাশের সড়ক, ফুটপাত ও মূল চলাচলের পথেও গরু রাখা হচ্ছিল।
কোথাও কোথাও বাঁশের অস্থায়ী ঘের তৈরি করে পশু বেঁধে রাখা হয়। এতে মেট্রোরেল যাত্রীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক জায়গায় ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়েছে।
ভোগান্তির শিকার এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মিত মেট্রো ব্যবহারকারীদের জন্য পরিস্থিতি খুব কষ্টকর হয়ে গেছে এবং প্রচণ্ড জ্যাম তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সীমানার বাইরে হাট বিস্তার শুধু নিয়ম লঙ্ঘনই নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামোর কার্যকারিতাও ব্যাহত করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপির উত্তরা বিভাগ অভিযান চালিয়ে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে পশু সরিয়ে দেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। হাটের ইজারাদারকেও সতর্ক করা হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, হাটের নির্ধারিত সীমানার বাইরে প্রধান সড়ক ও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশু রাখায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল, যা পরে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সড়ক দখলমুক্ত করা হয়।
তিনি স্পষ্ট করেন, সড়কে হাট বসানো বা পশু রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্দেশ অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৃষ্টির সময় কিছু ব্যবসায়ী গরু নিয়ে সেখানে অবস্থান নিয়েছিল এবং জানার পরপরই তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে আবার বসার খবর পেয়ে রাত দেড়টায় গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই জায়গা ইজারা দেয়া হয়নি এবং যারা সেখানে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
দিয়াবাড়ি পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বা আশপাশের কোনো জায়গা হাটের জন্য ইজারা দেয়া হয়নি। হঠাৎ ভারি বৃষ্টির কারণে কিছু ব্যবসায়ী সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল, যাদের পরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, কয়েকদিন আগের ভিডিও ভাইরাল করে সরকারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, অথচ বর্তমানে পশু কেনাবেচা হাটের ভেতরেই চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, মেট্রোর আশপাশে কোনো পশু কেনাবেচা চলবে না এবং ভবিষ্যতেও এমন পরিস্থিতি হতে দেওয়া হবে না।
