ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকেই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিজ নিজ পছন্দের পশু কোরবানি করছেন রাজধানীর মুসলিম সম্প্রদায়। ঈদের জামাত শেষ হওয়ার পরপরই মহাখালী, মিরপুর, এয়ারপোর্ট ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পশু কোরবানির ব্যস্ততা শুরু হয়। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে স্বস্তিতেই ঈদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন নগরবাসী।
কোরবানির আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এবার সবার মূল নজর দ্রুত বর্জ্য অপসারণের দিকে। ঈদের আনন্দ যেন দুর্গন্ধ বা পরিবেশ দূষণে ম্লান না হয়, সে জন্য সকাল থেকেই তৎপর রয়েছেন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। যেখানেই কোরবানি শেষ হচ্ছে, সেখানেই দ্রুত বর্জ্য পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়ছেন তারা।
দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন মাত্র ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুরো রাজধানীকে সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার দুই সিটিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৫৪ হাজার টন কোরবানির বর্জ্য তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে নিতে দুই সিটির স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৩১ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী একযোগে মাঠে কাজ করছেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করতে প্রতিটি কর্মীকে গড়ে সোয়া এক টন করে বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। এই কর্মযজ্ঞ সফল করতে দুই সিটির পক্ষ থেকে ৭ শতাধিক আধুনিক যান ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে পশুর রক্ত ও বর্জ্য থেকে যাতে কোনো ধরনের রোগবালাই বা দুর্গন্ধ না ছড়ায়, সেজন্য আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরবাসীর মাঝে পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার, স্যাভলন ও পলিব্যাগসহ প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শহর পরিচ্ছন্ন হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ ও নগর কর্তৃপক্ষ।
