গরম ও বৃষ্টিতে ত্বকের তিন রোগ

আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ০৭:০৭ এএম

ভ্যাপসা গরমে যেমন ঘাম হয়, তেমনি ঘামাচির সমস্যাও দেখা দেয়। আর অতিরিক্ত ঘামচির ফলে ত্বকের নানা ধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ হয়। তেমনি বৃষ্টিতে ঘামাচির পরই ছত্রাকজনিত চর্মরোগ বেশি হতে দেখা যায়। ঘাম ও ভেজা শরীর ছত্রাক জন্মানোর জন্য উপযোগী। যারা এয়ারকুলার ব্যবহার করেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন, তাদের এ রোগটি সাধারণত হয় না।

ছত্রাকজনিত চর্মরোগ প্রধানত তিনটি দাউদ, ছুলি ও ক্যানডিডিয়াসিস। এ ছত্রাক প্রজাতির সবই ত্বকের বাইরের অংশকে আক্রমণ করে।

দাদ

যার ইংরেজি নাম ডার্মাটোফাইটোসিস, যা টিনিয়া এবং দাদ নামেও পরিচিত, এটি ত্বকের একটি ছত্রাক সংক্রমণ সমস্যা হতে দেখা যায়। সাধারণত এর ফলে লাল, চুলকানি, আঁশযুক্ত, বৃত্তাকার ফুসকুড়ি হয়। সংস্পর্শে আসার চার থেকে চৌদ্দ দিন পর লক্ষণ শুরু হয়। ত্বকে গোলাকার চাকার মতো দাগ হচ্ছে দাদ। মধ্যখানের চামড়া স্বাভাবিক গোল দাগের পরিধিতে ছোট ছোট গোটা দেখা যায়, চুলকালে সেখান থেকে কষ ঝরতে থাকে। মাথা, হাত-পা ও নখে এ দাদ হতে পারে।

ছুলি

ছুলি ফাঙ্গাস বা ছত্রাকজনিত ত্বকের একটি রোগ। ডাক্তারি ভাষায় একে ঞরহবধ ঠবৎংরপরষড়ৎ/চরঃুৎরধংরং াবৎংরপড়ষড়ৎ বলা হয়। এটি গধষধংংবুরধ ঋঁৎভঁৎ নামক এক প্রকার ইস্ট দ্বারা হয়ে থাকে।

শরীরের বুক, পিঠ, গলা, হাত ও অন্যান্য উন্মুক্ত অংশে বেশি দেখা যায়। তবে কোনো কোনো সময় বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মুখেও দেখা দিতে পারে।

আক্রান্ত স্থানে সাদা বা বাদামি গাঢ় বা হালকা ছোট ছোট ছোপ ছোপ দাগের মতো দেখা দেয়। সাধারণত ফর্সা ত্বকে গাঢ় (গোলাপি/খয়েরি), শ্যামলা ত্বকে হালকা রঙের হয়। অনেক ছোপ ছোপ দাগ একসঙ্গে হয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করতে পারে। গরম বাড়লে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া বেড়ে যেতে পারে। সংক্রমণ অনেক বেশি হলে চামড়া উঠতে পারে। তবে শীতকালে ছুলি অনেকটাই কমে যায়। ত্বক সাদা দেখা যায় বলে অনেকেই ভুল করে এটাকে শে^তী ভাবেন।

ক্যানডিডিয়াসিস

শিশু, বৃদ্ধ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা যারা দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড ওষুধ খাচ্ছেন, যাদের ত্বকের ভাঁজে পানিতে বা ঘামে ভেজা থাকে তাদের এ রোগটি বেশি হয়। যারা সবসময় পানি নাড়াচাড়া করেন, তাদের আঙুলের ফাঁকে হাতের ভাঁজে, শিশুর জিহ্বায়, মহিলাদের যৌনপথে ও গর্ভবতীরা এতে বেশি আক্রান্ত হন।

চিকিৎসা

এটি নির্ভর করে আক্রমণের স্থান ও তীব্রতার ওপর। এ ধরনের চর্মরোগ অনেক ক্ষেত্রে রেসিস্ট্যান্স হয়ে যায় বলে নতুন ধরনের অ্যান্টি ফাঙ্গাল ট্যাবলেট ও মলম ব্যবহার করতে হয়। রোগ থেকে আরোগ্য সম্ভব, তবে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ খেতে হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত