আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হচ্ছে। তবে সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিন ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্তটি বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও কৌশলী পদক্ষেপ।
একদিকে তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে সরকারের ওপর বিশাল রাজস্ব ঘাটতি ও বাজেট ব্যবস্থাপনার চাপ রয়েছে। এই দুই বিপরীতমুখী সংকটের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি একসাথে কার্যকর করলে সরকারের বছরে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতো। বর্তমান রাজস্ব আদায়ের হার ও দুর্বল ট্যাক্স-টু-জিডিপি রেশিও-র কারণে সরকারের পক্ষে একবারে এই বিশাল অর্থের জোগান দেওয়া অসম্ভব ছিল। তিন ধাপে ভাগ করায় (প্রথম বছরে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ) সরকারের ওপর আকস্মিক আর্থিক ধাক্কা লাগবে না।
বাজারে হঠাৎ করে প্রচুর অর্থের সরবরাহ বেড়ে গেলে তা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। ধাপে ধাপে বেতন বাড়লে বাজারে টাকার প্রবাহ ধীরে ধীরে প্রবেশ করবে, ফলে কৃত্রিমভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এক লাফে বাড়ার ঝুঁকি কমবে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কারের এই সময়ে সরকারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, একবারে বড় অঙ্কের ব্যয় না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা একটি অত্যন্ত পরিপক্ব ও কৌশলী সিদ্ধান্ত।
এদিকে প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।রবিবার (৩১ মে) সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ১১ বছরে কর্মচারীদের বেতনের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি, দ্রব্যমূল্য বেড়েছে আকাশচুম্বী। এ অবস্থায় বাজার মূল্য সব কর্মচারীর ক্রয় ক্ষমতার বাইরে, যার কারণে বহু কর্মচারী বাঁচার তাগিদে চাকরির ফাঁকে বাড়তি কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ছুটি শেষে আজ খুলল অফিস-আদালত-ব্যাংক