গানের মাঝেই বেঁচে থাকবেন আজম খান

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ এএম

বাংলা গানের ইতিহাসে আজম খান এক অনন্য অধ্যায়। যিনি গিটার হাতে এ দেশের তরুণ প্রজন্মকে শিখিয়েছিলেন দ্রোহ আর ভালোবাসার নতুন এক ভাষা। আজ ৫ জুন, পপসম্রাট আজম খানের প্রস্থান দিবস। ২০১১ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি। তবে ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’ কিংবা ‘অনামিকা’র মতো কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে তিনি আজও বেঁচে আছেন এ দেশের কোটি শ্রোতার হৃদয়ে।

আজিমপুরের ১০ নম্বর কলোনিতে জন্ম নেওয়া আজম খানের শৈশব কেটেছে আজিমপুর ও কমলাপুরে। সেই শৈশবেই তার মনে দোলা দিয়েছিল ৫২-র ভাষা আন্দোলনের চেতনা। মাতৃভাষার দাবিতে মানুষের গণজমায়েত আর ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ গানগুলো শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন তিনি। চারপাশের সেই প্রতিবাদী সুরই তাকে পরবর্তী সময়ে সংগীতের পথে টেনে আনে।

শুধু গানের মাঠেই নয়, একাত্তরের রণাঙ্গনেও আজম খান ছিলেন সম্মুখযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে সহযোদ্ধাদের নিয়ে ঢাকায় প্রবেশের প্রাক্কালে মাদারটেকের ত্রিমোহনীতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ পরিচালনা করেন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর যখন চারপাশ যুদ্ধবিধ্বস্ত, যুবসমাজের একটা বড় অংশ দিগ্ভ্রান্ত, তখন তাদের সঠিক পথে ফেরাতে আজম খান বেছে নেন গানকে। পশ্চিমা রকের আদলে বাংলা গানে যুক্ত করেন  নতুন ধারা। তার হাত ধরে গড়ে ওঠা ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’ তরুণদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পপসম্রাট আজম খান আজ সশরীরে নেই সত্যি, তবে তার সৃষ্টি ও কালজয়ী গানগুলো সমসাময়িকতার দেয়াল ভেঙে তাকে বাচিয়ে রাখবে হাজার বছর।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কাল ৬ জুন দুপুর সাড়ে ১২টায় চ্যানেল আইতে ‘তারকাকথন’ এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ট্রিবিউট টু গুরু আজম খান’ প্রচার হবে। এতে আজম খানের পরিবার ও ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’-এর সদস্যরা অংশ নেবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত