ক্লিটস বিডির পথচলা

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

উদ্যোক্তার গল্প অনেক রকম হয়। কারও শুরু বড় অফিসে, কারও বড় বিনিয়োগে। আবার কারও শুরু হয় খুব ছোট, একেবারে নিজের বাসার ভেতর থেকে। ক্লিটস বিডির গল্পটি ঠিক তেমনই একটি গ্যারেজ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পৌঁছে যাওয়া জাতীয় দলের অধিনায়কের হাতে নিজের পণ্য তুলে দেওয়ার এক বাস্তব যাত্রা।

আজ মিরপুর ১০-এর সুমন প্লাজার তৃতীয় তলায় ক্লিটস বিডির যে ডিসপ্লে সেন্টার, সেটি দেখে কেউ সহজে বুঝতে পারবে না যে, এর শুরুটা হয়েছিল একেবারে সাধারণ একটি গ্যারেজ থেকে। শুরুর দিনগুলোতে কোনো দোকান ছিল না, ছিল না কোনো আলাদা শোরুমও। নিজের বাসার গ্যারেজই ছিল প্রথম ডিসপ্লে সেন্টার। কয়েক জোড়া ফুটবল বুট নিয়েই শুরু। পরিকল্পনা ছিল পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা করার। তাই কোথাও ঠিকানাও দেওয়া হতো না, শুধু একটি ফোন নম্বর রাখা থাকত।

কিন্তু খুব দ্রুত সেই পরিকল্পনা বদলে যায়। গ্রাহকরা শুধু অনলাইনে সন্তুষ্ট থাকেননি। তারা সরাসরি এসে বুট ট্রাই করতে চেয়েছেন। কেউ কেউ গ্যারেজে বসে অপেক্ষা করেছেন, শুধু একটি জুতা পরখ করার জন্য। কারণ ফুটবল বুট কোনো সাধারণ জুতা নয় অল্প সাইজের পার্থক্যই একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকি ইনজুরির ঝুঁকিও বাড়ায়।

এই চাপই আসলে উদ্যোক্তাকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। গ্যারেজেই শুরু হয় এক অদ্ভুত দৃশ্য একসঙ্গে কয়েকজন গ্রাহক বুট পরে হাঁটাহাঁটি করছেন, কেউ ট্রাই করছেন, কেউ দেখছেন। বাসার অন্য বাসিন্দারাও অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতেন এখানে কী হচ্ছে! ধীরে ধীরে সেই গ্যারেজ এক ধরনের অস্থায়ী শোরুমে পরিণত হয়। শুরুর সময় সব কাজই করতে হতো একাই। অর্ডার প্রস্তুত করা, গ্রাহক সামলানো, প্যাকিং সবকিছু। অনেক সময় তিন-চার জোড়া জুতা নিয়ে লিফটে করে নিচে নেমে গ্রাহককে ট্রাই করানো, আবার ফিরে এসে নতুন অর্ডার প্রস্তুত করা এই ছিল প্রতিদিনের বাস্তবতা।

ক্লিটস বিডির শুরুটা ছিল শুধু ফুটবল বুট দিয়ে। পরে ধীরে ধীরে ফুটসাল জুতা যুক্ত হয়, এরপর এক্সেসরিজ। গ্রাহকদের চাহিদা ও আগ্রহের ওপর ভিত্তি করেই পণ্যের পরিধি বাড়তে থাকে। বিশ্বকাপের সময় জার্সির প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেলে সেই দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জার্সির ক্ষেত্রে আনা হয় বিশেষত্ব। আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়রা যে ধরনের জার্সি পরেন, সেই মানের রেপ্লিকা পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। পাশাপাশি দেশের বাজারের কথা ভেবে কিছু পণ্য স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়, যাতে বিভিন্ন বাজেটের ক্রেতারাও মানসম্মত জার্সি পেতে পারেন। শিশু থেকে বড় সব বয়সের জন্য পণ্য রাখার দিকেও নজর দেওয়া হয়। এই পুরো যাত্রায় একটি বড় পরিবর্তন আসে ডিসপ্লে সেন্টার চালুর মাধ্যমে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মিরপুর-১২ এলাকায় প্রথম ডিসপ্লে সেন্টার চালু করা হয়। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু হয় মিরপুর ১০-এর সুমন প্লাজার বর্তমান ঠিকানায়। এখানে এসে গ্রাহকরা সরাসরি পণ্য হাতে নিয়ে দেখতে ও ব্যবহার করতে পারছেন, যা তাদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে।

বিশেষ করে ফুটবল বুটের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক সাইজ না হলে ইনজুরির ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই যারা কাছাকাছি থাকেন, তাদের জন্য এই ডিসপ্লে সেন্টার একটি বড় সুবিধা এনে দিয়েছে। এই পথচলার সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি আসে, যখন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সঙ্গে একটি ক্যাম্পেইন করা হয়। সেই সময় তাকে ক্লিটস বিডির একটি বেস্ট সেলার বুট উপহার দেওয়া হয়। তিনি সেটি পছন্দও করেন। একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের হাতে নিজের পণ্য তুলে দেওয়ার এই মুহূর্তটি উদ্যোক্তার জন্য এক বিশেষ সাফল্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত