কমিশন বাড়াতে সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সিএনজি স্টেশন মালিকদের এই সংগঠন দাবি করছে প্রতি ঘনমিটারে বর্তমান ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা করতে হবে। গতকাল শনিবার সংগঠনটি ঢাকায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জনগণের দুর্ভোগ এড়াতে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানায়।
এখন প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা দরে। এর মধ্যে সিএনজি স্টেশন মালিকরা কমিশন বাবদ ৮ টাকা পায়। এই ৮ টাকার মধ্যে মুনাফা, বিদ্যুৎ বিলসহ সব পরিচালন ব্যয় থাকে। মালিকরা বলছে সরকার এর আগে তাদের কমিশন বৃদ্ধি করার জন্য ২০১৩ সালে একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু সেই কমিটির সুপারিশও আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এখন আমরা সরকারের করা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাইছি।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব ফারহান নুর বলেন, ২০১৫ সালের পর সরকার সাত দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশনে তেমন পরিবর্তন আনা হয়নি। অথচ নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করায় অতিরিক্ত ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপানোর সুযোগও নেই। ফলে অনেক স্টেশন এখন লোকসানে চলছে।
তিনি জানান, ২০১৩ সালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় কমিশন ২ টাকা ৯৮ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কিন্তু পরে মাত্র ১ টাকা বাড়ানো হয়, বাকি ১ টাকা ৯৮ পয়সা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
সংগঠনটির দাবি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাড়তি ব্যয় সমন্বয়ে বর্তমান কমিশনের সঙ্গে আরও ২ টাকা ৪৬ পয়সা যোগ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি, শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি বৃদ্ধি, ডলারের উচ্চমূল্য এবং যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত আরও ৩ টাকা ৫০ পয়সা সমন্বয় জরুরি। সব মিলিয়ে কমিশন ৫ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ইজারা ফি, লাইসেন্স নবায়ন, ব্যাংক গ্যারান্টির কমিশন, ঋণের সুদসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক সিএনজি স্টেশন টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাদের অভিযোগ, গত এক দশকে বিভিন্ন সরকারি কমিটি ও মন্ত্রণালয় এ খাতের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করলেও বেশিরভাগ সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার পরিবর্তনের পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
ফারহান নুর বলেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সরকার দাবি মেনে নেবে বলে তারা আশা করছেন। অন্যথায় ওই দিন সারা দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সারা দেশে ৫১৩টি সিএনজি স্টেশন রয়েছে। সিএনজিচালিত পরিবহনের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি।
