নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে বড় বাধা বর্তমান রাজস্ব কাঠামো

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম

বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজস্ব কাঠামো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনে (ইভি) বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর উচ্চ কর ও শুল্ক আরোপের ফলে সবুজ জ্বালানি খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে রাজস্ব বৈষম্য: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের অনেক দেশ সবুজমুখী রাজস্ব নীতি গ্রহণ করলেও বাংলাদেশ এখনো এমন একটি কাঠামো অনুসরণ করছে, যা জীবাশ্ম জ্বালানিকে তুলনামূলক সুবিধা দিচ্ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর প্রভাব জ্বালানি মিশ্রণ, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত এবং পরিবহন খাতে জ্বালানি ব্যবহারের ওপরও পড়ছে।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ৫০টি পণ্য ও প্রযুক্তির ওপর পরিচালিত সিপিডির গবেষণায় দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অধিকাংশ পণ্যের ওপর মোট করের হার ২৭ থেকে ২৮ শতাংশ। ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ হার ৬২ থেকে ৯৩ শতাংশ এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনের ক্ষেত্রে ৬১ থেকে ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার, কন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের ওপরও উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিপরীতে, এলএনজির মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর মোট শুল্ক মাত্র ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, যা এ ধরনের জ্বালানিকে তুলনামূলকভাবে সস্তা রাখছে।

সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন বাজেটের ৯৫ শতাংশের বেশি দীর্ঘদিন ধরে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে। অন্যদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পগুলো পেয়েছে ৫ শতাংশেরও কম বরাদ্দ।

সেমিনারে সংস্থাটি জানায়, বিদ্যমান রাজস্ব বৈষম্য ইউটিলিটি পর্যায়ের নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর ফলে জ্বালানি খাতের কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর বিলম্বিত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি, ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর কর ও শুল্ক কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিদ্যমান প্রণোদনা ও সুবিধা পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে সিপিডি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত