ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতেও অনেকে যখন আতঙ্কিত, তখন একই স্থানে থেকেও কেউ কেউ টের পান না যে কী ঘটে গেল। একই সময়ে একই এলাকায় থাকার পরও এই অনুভূতির ভিন্নতার পেছনে মূলত দুইটি প্রধান কারণ কাজ করে: ব্যক্তির অবস্থান এবং শারীরিক সংবেদনশীলতা।
আপনি ভবনের কত তলায় আছেন, তার ওপর ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুভবের বিষয়টি অনেকখানি নির্ভর করে। সাধারণত নিচতলার তুলনায় বহুতল ভবনের ওপরের দিকে ঝাঁকুনি বেশি অনুভূত হয়। ফলে ওপরের তলার বাসিন্দারা দ্রুত এটি টের পান।
ভূমিকম্পের সময় আপনার শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি হাঁটাচলা, রান্না করা বা দৌড়াদৌড়ির মধ্যে থাকেন, তবে তার ঝাঁকুনি বোঝার সম্ভাবনা কম থাকে।
অপরদিকে, যিনি চুপচাপ টেবিলে বসে কাজ করছেন বা বিছানায় বিশ্রাম নিচ্ছেন, তিনি খুব সহজেই কম্পন ধরতে পারেন।
মানুষের ইন্দ্রিয়ের সংবেদনশীলতা এক নয়। কেউ যেমন উচ্চতা বা গতি দ্রুত টের পান, তেমনি মোশন বা গতির প্রতি যাদের সংবেদনশীলতা বেশি, তারা মৃদু কম্পনও সহজে বুঝতে পারেন।
অন্যদিকে, সংবেদনশীলতা কম হলে তীব্র ঝাঁকুনিও অনেকের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং মানুষের শারীরিক ও মানসিক একাগ্রতার পার্থক্যের কারণেই একই ভূমিকম্প একেক জনের কাছে একেক রকম মনে হয়।
কীভাবে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয়?
মোমেন্ট ম্যাগনিটিউড স্কেল নামেও ভূমিকম্প পরিমাপ করার একটি স্কেল আছে। এটি অনেক ক্ষেত্রে ভূমিকম্প মাপার যন্ত্র হিসেবে পরিচিত রিখটার স্কেলকে প্রতিস্থাপন করেছে।
ভূমিকম্পের মাত্রা বোঝাতে যে সংখ্যাটি দেয়া হয়, তা দিয়ে ফল্ট লাইন কতটুকু সরেছে এবং যে গতি এই সরানোর পেছনে কাজ করেছে সেটি নির্দেশ করে।
দুই দশমিক পাঁচ বা তার কম কম্পন সাধারণত অনুভূত হয় না, তবে যন্ত্রে ধরা পড়ে। পাঁচ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয় এতে সামান্য ক্ষতি হতে পারে। সাত দশমিক আট মাত্রার ভূমিকম্প বেশ শক্তিশালী বলে ধরা হয় এবং এতে মারাত্মক ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়।
আট মাত্রার বেশি কোনও ভূমিকম্প যে কোনো কিছুর ভয়াবহ ক্ষতি করতে পারে এবং এর কেন্দ্রে থাকা অবকাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে পারে।
দুটি টেকটোনিক প্লেট বা সাবপ্লেট পরস্পরের দিকে অগ্রসর হলে একটি আরেকটির নিচে প্রবেশ করে। সাধারণত ভারি পাতটি হালকা পাতের নিচে প্রবেশ করে এবং যে সীমানা বরাবর প্রবেশ করে তাকে সাবডাকশন জোন বলে
বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় দেখেছেন, সাবডাকশন জোনে বড় আকারের দু'টো ভূমিকম্পের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ বছর।