৫০ কেজিতে মণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৮:১১ এএম

বাজারে আসতে শুরু করেছে নওগাঁর আম। এ বছর জেলায় ৩ হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এখনো পুরোপুরি বাজার জমে ওঠেনি। এরই মধ্যে দাম নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন চাষিরা। আমের আকার ও মান এক রকম না থাকায় স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ীরা কেনার ক্ষেত্রে ৫০ কেজিতে ১ মণ হিসেবে কিনে থাকেন। এতে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে এবার প্রশাসন কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। 

আম সংগ্রহ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২২ মে গুটি আম পাড়ার মধ্য দিয়ে আম নামানো শুরু হয়েছে। এরপর ৩০ মে গোপালভোগ, ২ জুন ক্ষিরসাপাত, হিমসাগর, ৫ জুন নাকফজলি ও ১০ জুন ল্যাংড়া, হাঁড়িভাঙা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ জুন আম্রপালি এবং ২৫ জুন ফজলি ও ব্যানানা ম্যাংগো পাড়া শুরু হবে। দেরিতে পরিপক্ব হওয়া আশ্বিনা, বারি-৪, বারি-১১, গড়মতি, কাটিমন আম সংগ্রহ শুরু হবে ৫ জুলাই থেকে।

বর্তমানে গুটি জাতের আম মনপ্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার, ক্ষিরসাপাত ও গোপালভোগ ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

সাপাহার উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আমচাষি আজগর হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ২২০ বিঘা জমিতে আম চাষ করেছেন। অর্ধেক জমিতেই লাগিয়েছেন আম্রপালি জাতের আম। এবার মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া ভালো ছিল। আমের ফলনও ভালো হয়েছে। আমের সাইজ তুলনামূলক বড়ও হয়েছে। নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় বাগানে পানির সেচ দিতে হয়নি। অতিরিক্ত সেচ না দেওয়ায় খরচও কিছুটা কম হয়েছে। বাজারে পুরোপুরি উঠা শুরু করলে দাম ভালো পাওয়ার আশা করেন তিনি।

পোরশা উপজেলার সরাইগাছী গ্রামের আমচাষি ইসমাইল হোসেন জানান, ১০ বিঘা জমিতে আম্রপালি আর ১০ বিঘা জমিতে বারি-৪ জাতের আমের চাষ করেছেন। আমের ফলন ভালো হয়েছে। রোগ-বালাই নেই বললেই চলে। ভালো দাম পেলে লাভবান হওয়া যাবে। আমের ওজন মনের উপর আরও কয়েক কেজি বেশি দেওয়ার বিষয়ে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাপাহার উপজেলা আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত জানান, আমের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ৬০০ বেশি ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন এখানে আসে, যার কারণে ভীষণ যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসন এবং শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতার অনুরোধ করেন তিনি।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) খলিলুর রহমান জানান, নওগাঁ জেলায় ১৬ জাতের আম উৎপাদন হয়। অপরিপক্ব আম যাতে বাজারে না আসতে পারে, তার জন্য নজরদারি করা হয়েছে। এতে পর্যায়ক্রমে পরিপক্ব আম বাজারে আসবে। ৪০ কেজির পরিবর্তে আড়তদার ৫০ থেকে ৫২ কেজিতে মণ হিসেবে আম কেনার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা যাতে না হয় সে ব্যপারে প্রশাসন এবার কঠোর। চাষিরা নিজেদের স্বার্থে অনেক সময় আম গড় করে ওজনে বেশি দেন। আমপাড়া পুরোপুরি শুরু হলে ব্যাবসায়ীরা আসবেন তখন চাষিরা আরও ভালো দাম পাবেন। চলতি মৌসুমে ৩ হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় আমের বাগান রয়েছে ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ২২ হাজার টন। আম্রপালি জাতের আমবাগান রয়েছে ১৮ হাজার ৫২২ হেক্টর। বারি-৪ জাতের ২ হাজার ৪৭০ হেক্টর। আশ্বিনা ২ হাজার ৩২৩ হেক্টর, ল্যাংড়া ১ হাজার ৫৬০ হেক্টর, খিরসাপাত ১ হাজার ৪৭৬ হেক্টর এবং নাকফজলি ৯০০ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া রয়েছে বিদেশি জাতের কিছু আম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত