একনেকে চূড়ান্ত হয়নি চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চল

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৭:২৪ এএম

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বহুল আলোচিত ‘চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রকল্প নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সভা সূত্রে জানা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে অর্থ এবং পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যান্য সদস্য এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, সভায় নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে মোট ১২টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ৮টি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। যার মধ্যে নতুন ৩টি, সংশোধিত ৩টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে ২টি প্রকল্পের।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে নানা জটিলতায় আটকে ছিল চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠার সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প। ১০ বছর পর একনেকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলেও তা অনুমোদন পায়নি।

প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা এবং চীনের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) ঋণের আওতায় পাওয়া যাবে দুই হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

একনেক সভায় প্রকল্পটি আলোচ্য সূচিতে থাকলেও পরে চীনের সঙ্গে আলাপ সাপেক্ষে প্রকল্প বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।

একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথমান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্প। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউজ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঠাকুরগাঁও-এ লিফট সংযোজন’ প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’ প্রকল্প। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা সিএমএইচ এ ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ (২য় পর্যায়) (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্পের প্রথমটি ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট (৩য় সংশোধন)’। অন্যটি ‘দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প। এছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

এদিকে সভায় বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পের মেয়াদ কেন বারবার বাড়ানো হচ্ছে, এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তদন্ত করে দায়ীদের খুঁজে বের করার নির্দেশও দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রমতে, ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে কার কারণে প্রকল্পটির মেয়াদ বারবার বাড়াতে হচ্ছে, সেই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া সব ধরনের প্রকল্পের ব্যয় কমানোর নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ৬টি প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো: দেশের ৩০টি পৌরসভায় দ্বিতীয় সংশোধিত পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প, সংশোধিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যান্ত্রিক পার্কিং প্রকল্প এবং নাগরিক পর্যায়ে ডাকসেবা সম্প্রসারণ ও সরলীকরণ প্রকল্প। এছাড়া ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস প্রশিক্ষণ সেলের অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নির্মূলের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিতকরণ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় দ্বিতীয় সংশোধিত পাইকগাছা কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা প্রকল্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত