ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা

সাত দিনে ৪২৪০ কোটি টাকা উত্তোলন

আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৭:১৯ এএম

ইসলামী ব্যাংক থেকে সঞ্চয়ের টাকা তুলে নিচ্ছেন আমানতকারীরা। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে খোরশেদ আলমের নিয়োগের পর ঢাকায় ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় এ চিত্র দেখা যাচ্ছে। চলমান অস্থিরতার মধ্যে গত সাত দিনে গ্রাহকরা প্রায় ৪ হাজার ২৪০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে ইসলামী ব্যাংক। 

ব্যাংক সূত্র জানায়, গত রবিবার থেকে গ্রাহকরা টাকা তুলতে শুরু করেন। এটি আলোচনায় আসার পর সোম ও মঙ্গলবারে ব্যাপক হারে বিভিন্ন বুথ ও শাখায় ভিড় করতে থাকেন নগদ টাকা উত্তোলনের জন্য। এই সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু বুথ আংশিক সময়ের জন্য এবং কিছু বুথ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি পায়।

গার্ডিয়ান প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী নূর মোহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে বলেন,  এতদিন নিজের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক লেনদেন ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে করতাম। গত সোমবার থেকে ইসলামী ব্যাংকে সব লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছি। সব টাকা তুলে অন্য ব্যাংকে রেখেছি।

এই অস্থিরতার ফলে ব্যাংকটির ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ইসলামী ব্যাংকের সংরক্ষিত নগদ অর্থের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। তবে মঙ্গলবার তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। ফলে ব্যাংকটি সিআরআর ঘাটতির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সিআরআর বা নগদ সংরক্ষণ হার হলো ব্যাংকের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নগদ হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়। বর্তমানে দেশে সব ব্যাংকের জন্য গড়ে ৪ শতাংশ সিআরআর সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।

ইসলামী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত এক সপ্তাহে গ্রাহকদের ব্যাপক অর্থ উত্তোলনের কারণে তারল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটা ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ঢাকার বাইরে টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়নি।

তিনি বলেন, আমাদের সিআরআর সংরক্ষণের প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এর চেয়েও বেশি অর্থ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তা কমে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা চলতি হিসাব এখনো ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে সিআরআর ঘাটতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর সভাপতি নুর নবী মানিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, যাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমানতে ইসলামী ব্যাংক আজ শীর্ষে রয়েছে, তাদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত