অবিস্মরণীয় জয়

অভিনন্দন টাইগার বাহিনী 

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ১২:৪২ এএম

কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তি কিংবা সম্মিলিতভাবে সাফল্য অর্জনের খতিয়ানভুক্ত হওয়া বা ইতিহাসের সমুজ্জ্বল অধ্যায়ের গর্বিত অংশীজন হওয়ার আলো গ-িবদ্ধ থাকে না, দেশ-সমাজের জন্য তা হয়ে উঠে গর্বের বিষয়। আনন্দ-উচ্ছ্বাসের আভা বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনার প্রেক্ষাপট তৈরি করে, যা অনুপ্রেরণার জন্য হয় অধিক শক্তি সঞ্চারক। দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ^ ক্রিকেট ইতিহাসে পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়াকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে  ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে আনলেন নাজমুল হোসেন শান্ত তার সতীর্থদের নিয়ে। আমরা প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই টাইগার বাহিনীকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে দাপুটে পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেট সক্ষমতার এক অবিসংবাদিত প্রমাণ। আমরা অভিনন্দিত করি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), কোচ এবং টিম ম্যানেজমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সবাইকে।

আমরা দেখছি ওয়ানডে, টেস্ট, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের তিন পর্বেই  টাইগাররা সাফল্যের নতুন রেখাপাত করে চলেছেন এবং জানান দিচ্ছেন আরও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে পরিপক্বতা আর নান্দনিকতার আলো। শান্ত, সৈকত, নাহিদ রানা, তানজিদই শুধু নয়, দলের প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে সক্ষমতা দেখিয়েছেন স্তরে স্তরে। টিমওয়ার্ক এই শব্দ যুগল ক্রিকেটে বহুল প্রচলিত। নেতৃত্ব আর দলবদ্ধ পারফরমেন্সের ফসল টাইগাররা তুলতে পারছেন এবং এর ফলে অনুপ্রেরণার ভিতও ক্রমান্বয়ে মজবুত হচ্ছে। নতুন যুগের শক্তি নিয়ে যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন টাইগাররা, সেক্ষেত্রে তাদের অর্জন পুষ্ট। আমাদের ক্রিকেটে এসেছে বড় পরিবর্তন। সাফল্য-ব্যর্থতা আর নতুন সম্ভাবনার নানা অধ্যায় পেরিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং এরই জ¦লন্ত উদাহরণ সাম্প্রতিককালের অধ্যায়গুলো।

আমরা জানি, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেঙ্গল টাইগার নামেই অধিক পরিচিত-প্রশংসিত। ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ আজ যে গর্বিত অধ্যায়ের অংশীদার তা দেশ-জাতির জন্য পরমানন্দ। বর্তমানে বাংলাদেশে ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এর থেকেও অনেক বেশি কিছু। বাংলাদেশের ক্রিকেট দেশের কোটি কোটি মানুষের রক্তে মিশে যাওয়া নেশা। ক্রিকেটপ্রেমীদের ভালোবাসা দলের জন্য উজ্জীবনী শক্তি।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শুধু দুই দলের আরেকটি লড়াইয়ের স্মারকই নয়; বরং বদলে যাওয়া বাংলাদেশের শক্তি, সাহস ও সামর্থ্য যাচাইয়েরও এক বড় নজির। এবার অনেক উত্তর মিলেছে মাঠের লড়াইয়ে। কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়টি ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলাদেশের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত, অবিস্মরণীয় সাফল্যও বটে। অনুশীলনের মধ্য দিয়ে পরিশীলিত হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমরা মনে করি অনুশীলন পর্বে মনোযোগ আরও গভীর করার পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও জোর দেওয়া বাঞ্ছনীয়। ক্রিকেটে ফের যে বর্ণিল ইতিহাস সূচনা করেছে টাইগাররা, এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।

ইংরেজ ক্রিকেট তারকা ইয়ান বোথাম বলেছিলেন, ‘আমার কাছে আপনি কতটা ভালো খেললেন তা কোনো ব্যাপার না। খেলাধুলা মানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ক্রিকেট এবং অন্য খেলায় আপনি যা-ই করুন না কেন উপভোগ করুন, ইতিবাচক হোন এবং জেতার চেষ্টা করুন। পূর্ণতা সেখানেই।’ খ্যাতিমান এই তারকার ক্রিকেট সম্পর্কিত উক্তিটি আমাদের সামনে ফের উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জয়ের পর বাংলাদেশ দলের অর্থাৎ টাইগারদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে। ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটল টাইগারদের। ক্রিকেটে বাংলাদেশ একই সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সময় এবং সবচেয়ে খারাপ সময় এই বৈপরীত্যময় অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে এসেছে। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় যখন পরিবর্তনের এক নতুন অধ্যায়ের উন্মোচন হয়েছে, এমন এক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে অর্জন করেছে তা এক কথায় অভূতপূর্ব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত