ফের পুরোনো ঠিকানায় মমতা?

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০২:২১ পিএম

২৮ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জী। কংগ্রেস ছেড়ে নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসেছেন তিনি। তবে রাজনীতির সেই চেনা ছক এখন বদলাতে শুরু করেছে। দলের অন্দরের অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে ফের কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার সখ্যতা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি দিল্লির রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা ব্যানার্জীর দীর্ঘ বৈঠক এবং পরদিন অভিষেক ব্যানার্জীর সঙ্গে রাহুল গান্ধীর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। শোনা যাচ্ছে, বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কংগ্রেস হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে মমতা ব্যানার্জীকে জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা জাতীয় সহ-সভাপতি পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এর বিনিময়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে মূল কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত করার শর্ত নিয়ে দুই দলের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

মমতা ব্যানার্জীর এই সম্ভাব্য ‘ঘরে ফেরা’র পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক পটভূমি। নব্বইয়ের দশকে তৎকালীন রাজ্য কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ১৯৯৭ সালে তিনি দলত্যাগ করেন এবং ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। বামফ্রন্ট সরকারের পতনে তৃণমূল প্রধান ভূমিকা নিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দলের অন্দরে কোন্দল ও বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতার পদত্যাগ মমতার নিয়ন্ত্রণে কিছুটা ভাটা ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, অধীর রঞ্জন চৌধুরী বা আব্দুল মান্নানের মতো নেতারা মমতার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা এই পরিস্থিতিকে মমতা ব্যানার্জীর ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব’ ও ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের এই অস্থিরতা প্রমাণ করে যে মমতা ব্যানার্জী তার দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই একীভূতকরণের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের অনেক নেতাই দাবি করেছেন, ইন্ডিয়া জোটের কৌশলগত অংশ হিসেবেই কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ নেই। বর্তমানে মমতা ব্যানার্জী প্রস্তাবটি নিয়ে ভাবার জন্য সময় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত যদি তৃণমূল কংগ্রেসে বিলীন হয়ে যায়, তবে তা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত