ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি নীরব স্বাস্থ্য সংকট

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫ এএম

আমাদের শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি, ডিএনএ গঠন এবং স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভ সচল রাখতে ভিটামিন বি১২ (ঠরঃধসরহ ই১২) অপরিহার্য। শরীর নিজে এই ভিটামিন তৈরি করতে পারে না, তাই খাবারের মাধ্যমেই এর চাহিদা মেটাতে হয়। কিন্তু আমাদের অসচেতনতার কারণে ইদানীং ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি এক নীরব মহামারী হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

লক্ষণ

এই ভিটামিনের অভাব হলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে  ‘মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া’ বলা হয়। এর ফলে তীব্র ক্লান্তি, অলসতা, অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা এবং বুক ধড়ফড় করার মতো সমস্যা তৈরি হয়। সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রে। হাত-পা ঝিনঝিন করা, অবশ ভাব, শরীরের ভারসাম্যহীনতা এবং স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এর অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অনেকেই এই লক্ষণগুলোকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে ভুল করেন, যা পরে স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

কারা ঝুঁকিতে

ভিটামিন বি১২ মূলত প্রাণিজ খাবারে পাওয়া যায়। তাই যারা কঠোর নিরামিষভোজী, তাদের এই ঘাটতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তি, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবনকারী এবং যাদের পাকস্থলীতে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাদের শরীরে এই ভিটামিন শোষণ ব্যাহত হয়।

পরামর্শ

ঘাটতি পূরণে খাদ্যতালিকায় নিয়মিত ডিম, দুধ, পনির, কলিজা, লাল মাংস এবং সামুদ্রিক মাছ রাখুন। যারা নিরামিষভোজী, তারা চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। মনে রাখবেন, প্রাথমিক অবস্থায় রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি নির্ণয় করা গেলে মুখে খাওয়ার ওষুধ বা ইনজেকশনের মাধ্যমে এটি পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। তাই অবহেলা না করে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত