‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা হয়েছে কিন্তু অর্থের যোগানের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। এক অর্থে দিশাহীন সুবিশাল বাজেট ঘোষণার সেই পুরনো পথেই হেঁটেছে সরকার। এই বাজেটে আশাবাদ আছে তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেই’।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ করের তুলনায় সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা চাপিয়ে বাজেটের টাকার সংস্থান করা হবে। বিগত অর্থবছর গুলোতে কেন রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি, কেন খেলাপি ঋণ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে, কেন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি-সেই পর্যালোচনা সরকার করেনি। বিশাল অঙ্কের ঘাটতি বাজেটের চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই বর্তাবে। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ঋণে নির্ভরতাও বেড়ে যাবে। মূল্যস্ফীতি বাড়বে। বাড়বে আয় বৈষম্য।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এবারও বিনা প্রশ্নে কালো টাকা সাদা করার পুরনো ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে। দেশের আবাসন খাত পুরোপুরি দুর্বৃত্তদের হাতে চলে যাবে। জমি এবং ফ্ল্যাটের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাতে ভারসাম্য, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে বাজেটে স্পষ্ট ও কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই ।
বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্থান পায়নি বাজেটে। অর্থনৈতিক বাস্তবতা মূল্যায়ন না করে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারকে সামনে রেখে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ রেখেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা থেকে এবারের বাজেটও সরে আসতে পারেনি। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলা হলেও সেই ব্যাপারে কার্যকর দিকনির্দেশনা নেই।
তিনি বলেন অনেক ক্ষেত্রে গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে আসার কথা বলা হলেও বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। প্রস্তাবিত বাজেট গত দুই বছরের সংকোচনমূলক নীতি থেকে সরে এসে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি সম্প্রসারণমূলক কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তিনি বলেন বাজেটে বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক দিক রয়েছে যা স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন জরুরি।