২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা আরও বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সে লক্ষ্যে গত অর্থবছরের চেয়ে আগামী অর্থবছরে বাজেটে ১২ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই আলোকে দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হচ্ছে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরিত বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাবে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলা, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিকস ও যাত্রী হাবে উন্নীতকরণ, কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী ও সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলা, বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল শিগগিরই চালুর প্রস্তুতি, শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টা চলছে। বৃহৎ পর্যটন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই খাতে পর্যটক আকর্ষণ ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। বিমানের আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাত্রীসেবা ও কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা হবে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ইত্যাদির গুরুত্ব বিবেচনায় যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন বাবদ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ২৯২ কোটি টাকা।