বিলীনের শঙ্কায় ঘোলার চর

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার চরটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এটি টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের একটি উপকূলীয় এলাকা, যা নাফ নদ ও বঙ্গোপসাগরের ভাঙনে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে। সাগরের আগ্রাসনে দিন দিন ভেঙে ছোট হয়ে আসছে চরটি। এমনকি সাগরের করালগ্রাসে অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার ঝাউবাগানটিও বিলুপ্তের পথে। চরটি রক্ষায় সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে। অন্যদিকে শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন এলাকা হলেও ঘোলার চরে পাউবোর অবহেলায় বেড়িবাঁধ নির্মিত হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা যায়, সরকার শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়া পর্যন্ত বেড়িবাঁধ দিলেও ঘোলার চর বাদ পড়েছিল। এতে ঘোলার চরবাসী চরম ঝুঁকিতে আছেন। গত ৩৫ বছরেও এখানে বেড়িবাঁধের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করেই বেঁচে আছেন চরবাসী। বেড়িবাঁধ না হওয়ার জন্য স্থানীয়রা পাউবোকে দায়ী করেন। চরের বাসিন্দা মো. লালু বলেন, বেড়িবাঁধ না থাকায় জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের সময় পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। অথচ চর রক্ষায় কোনো ধরনের উদ্যোগ নেই পাউবোর। আরেক বাসিন্দা সিএনজিচালক আমিন বলেন, শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার চর এলাকার ঝাউবাগানটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের তোড়ে প্রতিদিন উপড়ে যাচ্ছে শত শত ঝাউগাছ। দ্রুত টেকসই বাঁধ বা জিওব্যাগ দিয়ে প্রতিরোধ না করলে বর্ষা মৌসুমের আগেই এই নয়নকাড়া এলাকাটি সাগরে হারিয়ে যাবে।

সরেজমিন দেখা যায়, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের ঘোলার চরের ঝাউবাগানটি সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঝড় থেকে দ্বীপকে রক্ষায় প্রাকৃতিক দেয়াল হিসেবে কাজ করে। ইতিমধ্যে সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে শত শত ঝাউগাছ উপড়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ বা বালুর বস্তা দিয়ে ভাঙন রোধ করা না গেলে পুরো বাগানটি সাগরে বিলীন হয়ে যাবে। সরকারি কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

সাম্প্রতিক সময়ে শাহপরীর দ্বীপের এ স্থানটি পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাবরাং ট্যুরিজম পার্কসংলগ্ন দৃষ্টিনন্দন সড়ক দিয়ে সাগর দেখতে দেখতে শাহপরীর দ্বীপে আসার পথটি ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করে। সড়কের দুই পাশে লবণ চাষের বিস্তৃত মাঠ এবং নাফ নদের মোহনায় দাঁড়িয়ে মিয়ানমার সীমান্ত দেখার সুযোগ পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। বিশেষ করে দ্বীপের শেষ প্রান্তের এ ঝাউবাগানটি পর্যটকদের মূল বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। পরিবেশবাদী ও এলাকাবাসী দ্বীপের দক্ষিণ অংশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারিহা ইয়াছিন জানান, শাহপরীর দ্বীপের এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলে ভবিষ্যতে এখানে পর্যটক সমাগম আরও বাড়বে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে ঝাউবাগানটি সাগরে বিলীন হয়ে যাবে। তাই ভূখ- রক্ষায় বর্ষা শুরুর আগেই জিওব্যাগ বা স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় ভেবেছিলাম, ঘোলার চরেও হবে। পরে দেখি ঘোলার চরকে বাদ দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এদিকে জোয়ারে সিসি ব্লকগুলো প্রতিনিয়ত ধসে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে এ বর্ষায় শুধু ঘোলার চর নয়, বাঁধটিও বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে।’

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য ইসমাইল বলেন, ‘মৎস্য আহরণের অন্যতম স্থান শাহপরীর দ্বীপ এখন আতঙ্কগ্রস্ত একটি জনপদ। দ্বীপটি সাগরের আগ্রাসনে দিন দিন বিলুপ্তির পথে। সেখানে বাঁধ নির্মাণে ঘোলার চরকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ঘোলার চরকে রক্ষায় পাউবোসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরি ভিত্তিতে সিসি ব্লক ও ডাম্পিং ব্লক দেওয়ার জোর দাবি জানাই।

এ বিষয়ে কক্সবাজার পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী সালমান বলেন, শাহপরীর দ্বীপে ঘোলার চর এরিয়ায় আমাদের বেড়িবাঁধের পর সরকারিভাবে একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে সেটি আর হয়নি। ভবিষ্যতে হবে কি না জানি না। কারণ বেড়িবাঁধের দক্ষিণে চর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত