কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ১২ জনকে পুশইনের ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পতাকা বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল শনিবার দৌলতপুরের বিলগাথুয়া ১৫০/৩ এস সাব পিলারসংলগ্ন এলাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া বিজিবি ৪৭ ব্যাটালিয়ানের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল ও বিএসএফের পক্ষে রানীনগর ক্যাম্পের এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বিজিবির একটি সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিক এ বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে। তারা শূন্যরেখায় অবস্থানরত নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিতেও অস্বীকৃতি জানায়। এ অবস্থায় বিজিবি প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ সময় চেয়ে বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত জানাতে চায়। ফলে আপাতত ওই ১২ জনকে শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হচ্ছে।
এদিকে পতাকা বৈঠকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় প্রাগপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলারের ভারতের অভ্যন্তরে পুশইনের শিকার ১২ জন অত্যন্ত মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছে চারজন নারী, চারজন পুরুষ ও চার শিশু রয়েছে। গত শুক্রবার ভোর রাতে বিএসএফ তাদের পুশইনের চেষ্টা করে। বর্তমানে সীমান্তে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।
১৬ বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, গতকাল গভীর রাতে রোকনপুর সীমান্তের সীমান্ত পিলার ২২০ এমপির কাছ দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা নদী পথে নৌকাযোগে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। ১৫ জনের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৮ জন নারী ও ৫টি শিশু ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করে।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে পুশইনের চেষ্টা করা ১৫ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানের পর রাত পৌনে ৩টার দিকে তাদের ভারতের ভবানীপুর এলাকায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। বিজিবি ও গ্রামবাসীর যৌথ প্রতিরোধ এবং তীব্র হুঁশিয়ারির মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তের ৯০৬/৮-এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, ‘যেকোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে সব ধরনের নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।’