গাজায় এক আসরে ১১০ ছাত্রীর কোরআন খতম

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও কোরআনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। 

সম্প্রতি গাজার ১১০ জন নারী হিফজ শিক্ষার্থী এক আসরে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করে বিরল এই কীর্তি গড়েছেন। এই আয়োজনকে গাজার ধর্মীয় ও কোরআন শিক্ষার ইতিহাসে গর্বের অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল কোরআন নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার ওকফ কর্তৃপক্ষ মানবিক সহায়তা সংস্থা আইএইচএইচের সহযোগিতায় এই খতমে কোরআন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে নারী কোরআন মুখস্থ বিভাগ ‘দিওয়ানুল হাফিজ’-এর ১১০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

‘তারাতিলুত তামকিন’ শীর্ষক কোরআন দিবস উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এটি গাজা উপত্যকার ওকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক কোরআন মুখস্থকরণ কার্যক্রমের অংশ। 

গাজার ওকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কোরআন ও সুন্নাহ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ সালেম এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন-

শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো এক আসরে সম্পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত সম্পন্ন করেছে। এটি গাজা ও এর জনগণের জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয়। ‘দিওয়ানুল হাফিজ’ এমন একটি কোরআনিক পরিবেশ গড়ে তুলেছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা আল্লাহর কিতাবের সেবায় নিজেদের সময় উৎসর্গ করার সুযোগ পাচ্ছে।

গাজার ওকফ বিভাগের পরিচালক আসআদ আল মুশতাহিও এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন-

যুদ্ধ, ধ্বংস এবং কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের কোরআন মুখস্থ ও তেলাওয়াতের অদম্য প্রচেষ্টা পুরো বিশ্বের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। এটি প্রমাণ করে, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও গাজার মানুষ আল্লাহর কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে আছে।

গাজায় যুদ্ধকালীন কোরআন তেলাওয়াত ও হিফজের এমন আয়োজন নতুন নয়। এর আগেও গাজা উপত্যকার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের সাইয়্যিদ কুতুব মসজিদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১০৫ জন হিফজ শিক্ষার্থী এক আসরে সম্পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত সম্পন্ন করেছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যুদ্ধের ভয়াবহতা সত্ত্বেও গাজায় কোরআন শিক্ষা ও মুখস্থকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে কোরআনের প্রতি ভালোবাসা ও অনুরাগ আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত