ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাশিয়ার বিমান হামলায় নয়জন নিহত হয়েছেন। হামলায় দেশটির আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা আশ্রমে আগুন লাগে।
সোমবার (১৫ জুন) ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রুশ নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করার কয়েক ঘণ্টা পরই এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক শিল্প অবকাঠামো লক্ষ্য করে আবারও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইউক্রেন। রবিবার (১৪ জুন) রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেলের স্থাপনায় হামলা চালায় ইউক্রেন বাহিনী।
এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, স্থাপনাটি মস্কোর জ্বালানি মজুত ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তুলা অঞ্চলের আজট রাসায়নিক কারখানাতেও আঘাত হানার দাবি করেন তিনি। যা রাশিয়ার বিস্ফোরক উৎপাদন সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া রাশিয়ার দখল করা ইউক্রেন ভূখণ্ডে সামরিক সরবরাহ ও লজিস্টিকস কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি কিয়েভের।
হামলার বিষয়টি আংশিক স্বীকার করেছে রাশিয়া। ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের গভর্নর জানান, ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় শিল্প খাতের জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে মস্কোগামী সড়ক যোগাযোগ। তুলা অঞ্চলের গভর্নর জানান, ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নোভোমস্কভস্ক শহরের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভেতরে পড়েছে।
এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে যুদ্ধ বন্ধের চাপ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ক্রেমলিনের দাবি, ফোনালাপে ট্রাম্প যুদ্ধের অবসানকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে সহায়তার আগ্রহও প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে ইরান ইস্যুতেও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে মস্কো।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনিও। যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
হরমুজ প্রণালি খুলছে, কাউকে আর কখনও টোল দিতে হবে না