যুদ্ধ থেকে ফুটবলে; দুই বার পিছিয়েও নিউজিল্যান্ডকে রুখলো ইরান

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ১০:১০ এএম

‎মাঠের বাইরে যুদ্ধ আর ভূ-রাজনৈতিক চরম উত্তেজনা; আর মাঠের ভেতরে টানটান উত্তেজনা ও গ্যালারিভর্তি দর্শকের মিশ্র আবেগ—সব মিলিয়ে এক অবিস্মরণীয় আবহে শুরু হলো ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের ফুটবল অভিযান। গ্রুপ 'জি'র প্রথম ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউজিল্যান্ডের সাথে ২-২ গোলের রোমাঞ্চকর ড্র করেছে ‘টিম মেল্লি’।

‎ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডের বিখ্যাত সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইরানের হয়ে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন রামিন রেজায়িয়ান ও মোহাম্মদ মোহেব্বি।

‎ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬৫ ধাপ পিছিয়ে থাকলেও (ইরান ২০তম এবং নিউজিল্যান্ড ৮৫তম) ম্যাচ শুরুর মাত্র ৭ মিনিটেই পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেয় নিউজিল্যান্ড। কিউই অধিনায়ক ক্রিস উড ইরানের একটি গোল কিক রুখে দিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ফরোয়ার্ড এলিজাহ জাস্টের দিকে। চলন্ত জাস্টের দুর্দান্ত ভলিতে শুরুতেই লিড নেয় অল হোয়াইটসরা।

‎প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ইরান ম্যাচে ফেরে ৩২তম মিনিটে। পেনাল্টি বক্সের ডান প্রান্তে ফাঁকায় বল পেয়ে বুটের বাইরের অংশ দিয়ে আলতো চিপে দারুণ এক গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ডিফেন্ডার রামিন রেজায়িয়ান।


‎দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৫৪ মিনিটে) আবারও ক্রিস উড ও এলিজাহ জাস্ট জুটির ম্যাজিক দেখে গ্যালারি। উডের রক্ষণভেদী পাস থেকে জাস্ট ম্যাচের ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে নিউজিল্যান্ডকে আবারও এগিয়ে নেন (২-১)।

‎তবে ১০ মিনিট পরেই, অর্থাৎ ৬৪তম মিনিটে ইরানকে সমতায় ফেরান মোহাম্মদ মোহেব্বি। এবার গোলদাতার ভূমিকা থেকে অ্যাসিস্টারের ভূমিকায় আসেন রেজায়িয়ান; তাঁর একটি নিখুঁত ও দূরপাল্লার ক্রস থেকে চমৎকার হেডে গোল করেন মোহেব্বি।

‎শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে এবং জার্সি বদল করতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে ইরানের কোচ আমির ঘালানোই ডাগআউটে একা বসে থাকলেও, ফুটবলাররা পুরো মাঠ ঘুরে করতালি দিয়ে গ্যালারির হাজার হাজার সমর্থককে ধন্যবাদ জানান।

গ্যালারিতে প্রতিবাদের ঝড়

‎লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি প্রবাসী সম্প্রদায় বসবাস করে। ফলে গ্যালারিতে ৭০ হাজারেরও বেশি দর্শকের প্রায় সবাই ছিলেন ইরানি বংশোদ্ভূত। তবে মাঠের বাইরের রাজনৈতিক বিভেদ স্পষ্ট ছিল গ্যালারিতেও।

‎ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় কয়েকশ ইরানি মার্কিন নাগরিক তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এমনকি ম্যাচ শুরুর আগে ইরানের জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় গ্যালারির একটি বড় অংশ ভুভুজিলা বাজিয়ে এবং মাঠের দিকে পিঠ ফিরিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গ্যালারির বিভিন্ন অংশে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের 'সিংহ ও সূর্য' খচিত পতাকা দেখা যায়।

‎তবে খেলা শুরু হতেই সমস্ত রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে দর্শকরা খেলোয়াড়দের সমর্থনে মেতে ওঠেন। "ইরান! ইরান!" চিৎকারে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সোফাই স্টেডিয়াম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত