আর্থিক খাতের আইন বাস্তবতার আলোকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান বিএবি সভাপতির

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০১:১১ পিএম

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের স্বার্থে আর্থিক খাতের কিছু আইন ও বিধিবিধান বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএবি) প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই শিকদার। তিনি বলেছেন, অতীতের অনিয়ম বা অপরাধের প্রতিক্রিয়ায় এমন কোনো আইন করা উচিত নয়, যা সৎ, দক্ষ ও সফল উদ্যোক্তাদের কার্যক্রমে অযথা বাধা সৃষ্টি করে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আব্দুল হাই শিকদার বলেন, দেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যেসব উদ্যোক্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তাদের জন্য আরও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধের কারণে একজন উদ্যোক্তা একাধিক প্রতিষ্ঠানে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না, যা বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, আর্থিক খাতের বিভিন্ন নিয়মকানুন নতুন করে পর্যালোচনা করে দেখা দরকার, সেগুলো বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও কার্যকর আছে কি না। যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে, তাদের উৎসাহিত করার মতো নীতিগত পরিবেশ থাকা উচিত।

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএবির প্রেসিডেন্ট বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা মালিকানা যদি জোরপূর্বক, অনিয়মের মাধ্যমে বা প্রভাব খাটিয়ে হাতবদল হয়ে থাকে, তাহলে সে বিষয়ে আইনি কাঠামো কী হওয়া উচিত, তা নীতিনির্ধারকদের বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড গঠন বা মালিকানা কাঠামো নিয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পরামর্শ দিতে চাননি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলে উল্লেখ করেন তিনি। আব্দুল হাই শিকদার বলেন, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং এমন পরিবেশ তৈরি করা, যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অনিয়মের মাধ্যমে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে। একই সঙ্গে যোগ্য ও সৎ উদ্যোক্তাদের জন্যও সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে তারা দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত