চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মানবিকতায় নতুন জীবন পেলেন খালে ভেসে যাওয়া বৃদ্ধা

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

পিরোজপুর শহরের ভারানি খালে ভেসে যাওয়া এক অসহায় বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ১২ বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া। পরে বৃদ্ধার পরিচয় শনাক্ত করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পুলিশ ও পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে পিরোজপুর শহরের শেখপাড়া বসন্তপুল সংলগ্ন এলাকায়।

জানা যায়, পিরোজপুর শহরের শেখপাড়া বসন্তপুল এলাকার ভারানি খালে ভেসে আসতে দেখা যায় প্রায় ৭৫ বছর বয়সী বিমলা শিকদার নামের এক বৃদ্ধাকে। পরে বসন্তপুল এলাকার ১২ বছর বয়সী শিশু মারিয়া তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। মারিয়া ও তার পরিবার বৃদ্ধার ভেজা কাপড় পরিবর্তন করিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং তার পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। এ ঘটনার পরপরই আশপাশের মানুষজন ঘটনাস্থলে ভিড় করে।

তবে বৃদ্ধা নিজের বাড়ির ঠিকানা বা পরিবারের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে না পারায় মারিয়া ও তার পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে। পরে বিষয়টি পিরোজপুরের স্থানীয় অনলাইন গণমাধ্যম 'স্বাধীন ২৪' এবং 'পিরোজপুর নিউজ'-এ সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করা হলে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধার পরিচয় অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেন এবং প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করেন।

জানা যায়, বৃদ্ধার নাম বিমলা শিকদার (৭৫)। তিনি পিরোজপুর শহরের পালপাড়া এলাকার মৃত রতন শিকদারের মা।

এ ঘটনায় বৃদ্ধাকে পুলিশ, জেলা ছাত্রদল ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিমলা শিকদারকে হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত হন বৃদ্ধার নাতি জয় (১৮) ও তার মা। জয় জানান, তার দাদির এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। তার বাবা মারা গেছেন এবং ফুফু মঠবাড়িয়ায় থাকেন। বর্তমানে দাদি তাদের সঙ্গেই থাকেন।

জয় বলেন, আমার মা অসুস্থ। দাদি প্রায়ই বাসা থেকে একা বের হয়ে যান। বুধবার সকালেও তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাইনি। পরে জানতে পারি তিনি হাসপাতালে আছেন।

পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন কুমার বলেন, আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে অসহায় বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা জানার চেষ্টা করি। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পিরোজপুর সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. আসিফ শেখ বলেন, স্থানীয় সাংবাদিক ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসি। ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি এবং পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত