যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক বা আন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার আগেই মূলত ৩টি প্রধান জটিলতার কারণে ভেস্তে যেতে পারে।
দীর্ঘ সংঘাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই প্রাথমিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও আগামী ৬০ দিনের চূড়ান্ত আলোচনা সফল করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
১. ইসরায়েলের লেবানন অভিযান ও অবস্থানদ্বন্দ্বের সূত্র: সমঝোতা অনুযায়ী সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হলেও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে সম্পূর্ণ সরতে রাজি নয়। ইরান ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের দাবি, ইসরায়েলিদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ছাড়া প্রকৃত শান্তি অসম্ভব। ফলে লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা ও সেখানে তাদের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অবস্থান এই পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে যেকোনো সময় ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।
২. ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ও পারমাণবিক কর্মসূচিদ্বন্দ্বের সূত্র: আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) তথ্য মতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। ওয়াশিংটন এই মজুত সম্পূর্ণ ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় (Down-blend) করতে চায়, যাকে ট্রাম্প তাদের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখছেন। ফলে আগামী ৬০ দিনের চূড়ান্ত আলোচনায় এই ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে দুই পক্ষ একমত হতে না পারলে চুক্তি ভেস্তে যাবে এবং ট্রাম্প পুনরায় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।
৩. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও টোল ব্যবস্থাদ্বন্দ্বের সূত্র: বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। ইরান এই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা তদারকির নামে এক ধরনের 'পরিষেবা ফি' বা টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে। ফলে মাইন অপসারণ, নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এবং মুক্ত জাহাজ চলাচলের অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গভীর মতভেদ রয়েছে, যা চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর আটকে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই তিনটি অমীমাংসিত সংকটের পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কট্টরপন্থীদের চাপ এবং ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের চরম অবিশ্বাস আগামী দিনগুলোতে এই কূটনৈতিক অগ্রগতিকে যেকোনো মুহূর্তে অকার্যকর করে তুলতে পারে।
ইরানের সব বন্দর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র