সুইস ঝড়ে লন্ডভন্ড বসনিয়া

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ এএম

লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে তখন ম্যাচের ৭১ মিনিট পার হয়ে গেছে। বল দখলে প্রায় ৭০ শতাংশ এগিয়ে থেকেও গোলমুখের ব্যর্থতায় পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় ভুগছিল সুইজারল্যান্ড। ঠিক সেই মুহূর্তে ডাগআউট থেকে জাদুকরী এক চাল চাললেন সুইস মাস্টারমাইন্ড মুরাত ইয়াকিন। একসঙ্গে তিন ফুটবলারকে মাঠে নামিয়ে দিলেন বদলি হিসেবে। ফলাফল? ম্যাচের পুরো ভাগ্যটাই যেন গেল বদলে। ইনজুরি টাইমসহ ম্যাচের শেষ ২৩ মিনিটে মাঠজুড়ে চলল অবিশ্বাস্য এক গোলবন্যা, যেখানে দুই দল মিলিয়ে জালে জড়াল ৫টি গোল! কাতার ম্যাচের ড্রয়ের হতাশা ভুলে ৪-১ গোলের এই বিধ্বংসী জয়ে বিশ্বমঞ্চে নকআউট পর্বের জোর হুঙ্কার ছাড়ল ইউরোপের দলটি।

ইয়াকিনের এই রণকৌশলের মূল নায়ক ছিলেন সুইজারল্যান্ডের ২০ বছর বয়সী বিস্ময়বালক ইয়োহান মানজাম্বি। বদলি হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ১৬৬ সেকেন্ডের মাথায় রুবেন ভারগাসের দুর্দান্ত পাস থেকে চোখ ধাঁধানো এক সাইড ভলিতে ডেডলক ভাঙেন ফ্রেইবুর্কের এই মিডফিল্ডার। এরপর ৯০ মিনিটে যখন তিনি নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন, ততক্ষণে মাত্র ২০ বছর ২৪৭ দিন বয়সে বিশ্বমঞ্চে বদলি হিসেবে জোড়া গোল করার এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে রোমাঞ্চিত মানজাম্বি বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য, আমার পুরো ক্যারিয়ারেরই এটি প্রথম জোড়া গোল। আর সেটি কি না বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে!’ ম্যাচ যেখানে যাচ্ছিল গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে সেখানেই কি না শেষ পর্যন্ত স্কোর লাইন ৪-১ এর! এতেই ম্যাচ শেষে নিজের কৌশল ও প্রতিপক্ষকে ছাড়িয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সুইস কোচ ইয়াকিন বলেন, ‘মাঠে পুরো শক্তি ধরে রাখাটাই ছিল আমাদের মূল কৌশল। প্রতিপক্ষ প্রচুর দৌড়ানোর কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল এবং শেষ হাইড্রেশন ব্রেকের পর আমরা গতিময় খেলোয়াড়দের নামিয়ে সেই সুযোগটি লুফে নিই।’ মানজাম্বির প্রশংসা করতেও ভোলেননি ইয়াকিন। ‘ও খুবই বৈচিত্র্যময় এবং আনন্দপ্রিয় একজন ফুটবলার, যে প্রতিপক্ষকে চমকে দিতে পারে।’

 ম্যাচের ৮০ মিনিটে ব্রিল এমবোলোকে বিপজ্জনক ফাউল করায় বসনিয়ার তারিক মুহারেমোভিচ সরাসরি লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের প্রতিপক্ষকে পেয়ে আক্রমণ আরও তীব্র করে সুইজারল্যান্ড। ৮৪ মিনিটে ভারগাস ব্যবধান ২-০ করার পর, ৯০ মিনিটে মানজাম্বি নিজের ঐতিহাসিক দ্বিতীয় গোলটি পান। তবে নাটকের তখনো বাকি ছিল; যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বসনিয়ার বদলি তারকা এরমিন মাহমিচ এক দুর্দান্ত ভলিতে ব্যবধান কমিয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন। কিন্তু ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ে জিব্রিল সো বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় বসনিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সুইস কাপ্তান গ্রানিত জাকা।

এই বিশাল হারের পরও অবশ্য ভেঙে পড়ছেন না বসনিয়ার কোচ সের্গেই বারবারেজ। তার নজর এখন কেবলই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে, ‘আমাদের এখনো তৃতীয় ম্যাচ বাকি আছে এবং কিছুই শেষ হয়ে যায়নি। এই হারটি আমাদের জন্য বিশাল ধাক্কা হলেও আমি ঘ্যানঘ্যান করা পছন্দ করি না।’ এই বিধ্বংসী জয়ের পর ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেল সুইজারল্যান্ড, যেখানে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কানাডা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত