“আগামীকাল আমরা ভিন্ন এক ম্যাচ খেলব।” হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এমন বার্তা দিয়েই শেষ করেছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। মাঠের পারফর্মে এবার সেলেসাও বসের সেই বার্তা ফিরিয়ে আনলেন কুনহা-ভিনিসিয়ুসরা। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র এবং ব্রাজিলিয়ান জার্সির চাপ ছাপিয়ে এবার জয়ে ফিরল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হাইতির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের দুর্দান্ত এক জয়ে গ্রুপ সি-এর শীর্ষে উঠলো ব্রাজিল।
ইগর থিয়াগোর বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া ম্যাথিউস কুনহা ১২ মিনিটের ব্যবধানে করেন জোড়া গোল। আরেকটি গোল করেন সেলেসাওদের আগের ম্যাচের স্কোরার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পুরোটা সময় হাইতিকে কোণঠাসা করে রাখে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ, প্রতিপক্ষকে একটি শটও নিতে দেয়নি তারা। বিপরীতে ৬৩ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে ভিনিসিয়ুসরা ৭টি শট নেন, যার ৫টিই ছিল অন-টার্গেট। সেখানেই আসে ম্যাচের তিনটি গোল। যদিও শুরুর ২০ মিনিটে হাইতির সুশৃঙ্খল রক্ষণ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল সেলেসাওদের। এর মাঝে দ্বাদশ মিনিটে রাফিনহার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিলও হয়ে যায়।
ম্যাচের গতি বদলায় ২৩তম মিনিটে। বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে ভিনিসিয়ুসের নেওয়া শট হাইতি গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও, ফিরতি বলে সুযোগসন্ধানী টোকায় দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন কুনহা। এরপর ৩৬তম মিনিটে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এগিয়ে তিনজনের মধ্যে দিয়ে ভিনিসিয়ুস বল বাড়ায় কুনহার উদ্দেশ্যে। সেখানে ভারসাম্য হারিয়েও বাঁ পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড।
এদিকে ৩৯তম মিনিটে রাফিনহা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে বিকল্প হিসেবে নামানো হয় তরুণ রায়ানকে। চোট সেভাবে গুরুতর না হলেও সতর্কতা বিবেচনায় মাঠে ছাড়েন রাফিনহা, এমনটাই বলছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
দারুণ অ্যাসিস্টের পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৪৫+৩ মিনিট) ম্যাচের স্কোরলাইন ৩-০ করেন ভিনিসিয়ুস। মাঝমাঠ থেকে লুকাস পাকেতার রক্ষণচেরা পাস ধরে দারুণ গতিতে হাইতি ডিফেন্সকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার। খুব বেশি ঘাম না ঝরিয়েই কার্যকর ও বিধ্বংসী ফুটবলের প্রদর্শনী দেখিয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধেই বড় জয়ের ভিত গড়ে ফেলে কার্লো আনচেলত্তির দলটি।
এদিকে প্রথমার্ধের শেষদিকে কোণঠাসা হয়ে থাকা হাইতি দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে ওঠে ব্যবধান কমাতে। পাল্টা আক্রমণে একের পর এক আক্রমণ শানালেও ব্রাজিল ডিফেন্সের দেয়াল ভাঙতে পারেনি একবারও। তবে হাইতি সেটির খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল ৬২ মিনিটে। কর্ণার কিক থেকে পাওয়া এক বলে রিচার্ডো আদের দারুণ এক হেড প্রতিহত করেন সেলেসাওদের গোলরক্ষক আলিসন বেকার এবং সেখানে বাড়তি বিপদ এড়ায় দানিলোর বুদ্ধিদীপ্ত ক্লিয়ারেন্স।
দ্বিতীয় হাইড্রেশন যাওয়ার আগ মুহূর্তে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ এক সুযোগ পায় ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুসের পাস ধরে মিনিট পাঁচেক আগেই বদলি হিসেবে নামা গ্রাবিয়েল মার্তিনেল্লির দারুণ এক ফিরে আসে গোলপোস্টে লেগে। তবে সঙ্গেই অবশ্য উঠে অফসাইডের পতাকা। এদিকে ৭৭ মিনিটে দারুণ এক শটে বল জালে জড়ায় নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামা তরুণ এনদ্রিক। তবে অফসাইডে কাটা পড়ে বিশ্বমঞ্চে তার প্রথম গোল উদযাপন। সেখান থেকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দল দুটি। এতে প্রথমার্ধের তিন গোলের ভরে ৩-০ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা।
২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সি-এর শীর্ষে ওঠা ব্রাজিলের নজর এবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের। সেই লক্ষ্যে আগামী ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নামবে তারা। এদিকে সমান পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা একই দিনে খেলবে হাইতির বিপক্ষে।