টুখেলের কড়া হেডমাস্টারি

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

অনুশীলনে তখনো বল গড়ায়নি। হঠাৎ করেই টটেনহ্যাম ডিফেন্ডার জেদ স্পেন্সের দিকে ধেয়ে গেল টমাস টুখেলের তীব্র চিৎকারÑ ‘জেগে ওঠো!’ কড়া হেডমাস্টারের মতো মাঠের অনুশীলনে খেলোয়াড়দের একটুও ছাড় দিচ্ছেন না এই জার্মান কোচ। আর টুখেলের এমন কঠোর মেজাজ ও হুঙ্কারই এখন ইংল্যান্ড শিবিরের মূল চালিকাশক্তি। প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়া থ্রি লায়ন্সরা এবার বোস্টনের মাঠে নামছে ঘানার বিপক্ষে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হতে যাওয়া গ্রুপ ‘এল’ এর ম্যাচটিতে জয়ের ধারা বজায় রেখে গ্রুপে সবার আগে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে মরিয়া ইংল্যান্ড।

গ্যারেথ সাউথগেটের রক্ষণাত্মক ফুটবল ছাড়িয়ে টুখেলের অধীনে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও সাহসী ফুটবল খেলছে ইংলিশরা, যার প্রমাণ মিলেছে প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেই। প্রথমার্ধে ২-২ সমতার পর টুখেলের কড়া নির্দেশনায় আগ্রাসী রূপ ধারণ করে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনরা। ম্যাচ শেষে টুখেল নিজেই বলেছিলেন, তিনি ছেলেদের আরও সাহসী হয়ে নিজেদের খেলাটা খেলতে উৎসাহিত করেছিলেন।

এদিকে ঘানার ম্যাচের আগে ইংলিশ শিবিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের অবিশ্বাস্য ‘সাইড বেঞ্চ’। প্রথম ম্যাচে মার্কাস রাশফোর্ড ও বুকায়ো সাকাদের মতো তারকাদের বদলি হিসেবে নামিয়ে টুখেল দেখিয়েছেন তার স্কোয়াডের গভীরতা কতটা। টুখেলের এই কৌশল নিয়ে স্ট্রাইকার ওলি ওয়াটকিন্স বলেন, ‘আমি মনে করি এই স্কোয়াডের প্রতিটি খেলোয়াড়ই গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের যে স্কোয়াড ডেপথ আছে এবং সেদিন বেঞ্চ থেকে যারা মাঠে নেমেছিল তা দুর্দান্ত। ম্যাচের ৬০ বা ৭০ মিনিটের দিকে যখন আমি দেখলাম তিনি (টুখেল) মূলত পুরো ফ্রন্ট লাইনটাই বদলে ফেলছেন, আমি সত্যিই রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম।’

টুখেলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কোচিং স্টাইল নিয়েও মুখ খুলেছেন ওয়াটকিন্স। তিনি বলেন, ‘তিনি আপনাকে চিৎকার করে ধমক দিতে ভয় পান না। তিনি সবসময় আপনার কাছ থেকে সেরাটা দাবি করেন এবং নিশ্চিত করেন যে আপনি প্রতিদিন যেন শতভাগ মনোযোগ ধরে রাখেন।’ ইংল্যান্ডের জন্য আরও বড় স্বস্তি হলো, অ্যাকিলিস টেন্ডিনাইটিসের সমস্যায় ভুগতে থাকা উইঙ্গার বুকায়ো সাকা পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন, যা তাদের বেঞ্চের শক্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপরীতে আফ্রিকান পরাশক্তি ঘানাও এই ম্যাচে নামার আগে বেশ সতর্ক। প্রথম ম্যাচে পানামার বিপক্ষে একদম শেষ মুহূর্তের অতিরিক্ত সময়ে ক্যালেব ইয়েরেনকির গোলে জয় পেলেও নিজেদের অগোছালো খেলা নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট ছিলেন না কোচ কার্লোস কুইরোজ। বল দখল ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে পিছিয়ে থাকা দলটির মূল চিন্তা এখন তাদের প্রধান তারকা অ্যান্টোইন সেমেনিওকে নিখুঁতভাবে ব্যবহার করা। ঘানা শিবিরে বড় ইতিবাচক দিক হলো মাঝমাঠের প্রধান ভরসা টমাস পার্টের প্রত্যাবর্তন।

তবে বড় দুশ্চিন্তা রয়ে গেছে তাদের এক নম্বর গোলরক্ষক লরেন্স আতি-জিগিকে নিয়ে, যিনি প্রথম ম্যাচে কুঁচকির চোটে পড়েছিলেন। সোমবারের চূড়ান্ত ফিটনেস টেস্টে তিনি উত্তীর্ণ হতে না পারলে পোস্টের নিচে দেখা যাবে অনভিজ্ঞ বেনিয়ামিন আসারেকে। কুইরোজ খুব ভালো করেই জানেন, টুখেলের এই গতিময় ও বিধ্বংসী আক্রমণভাগের সামনে ছক একটু ওলটপালট হলেই বড় চড়া মূল্য চোকাতে হবে। কুইরোজের মতে, এই বিশ্বকাপে জিততে হলে খেলোয়াড়দের ত্যাগ স্বীকার ও মাঠের ভেতর রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

দুই দলের শক্তির বিচারে ইংল্যান্ড পরিষ্কার ফেভারিট হলেও ব্ল্যাক স্টারদের আশা দেখাচ্ছে ২০১১ সালের সেই একমাত্র ঐতিহাসিক প্রীতি ম্যাচের স্মৃতি। ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের সেই ম্যাচে অ্যান্ডি ক্যারলের গোলে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে আসামোয়া গিয়ানের জাদুকরী গোলে ইংল্যান্ডকে ১-১ ব্যবধানে রুখে দিয়েছিল ঘানা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত