সিলেটের মাটিতে শুকতারা

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১২:২৫ এএম

সিলেট শহর থেকে ৭.৫ কিলোমিটার দূরে শুকতারা প্রকৃতি নিবাস। সিলেটের খাদিম নগরের জাতীয় উদ্যানের টিলায় অবস্থিত। ১৪ একর জায়গাজুড়ে এই রিসোর্টের অবস্থান। প্রকৃতির সঙ্গে মিলমিশ করেই যেন রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। দুইপাশে চা বাগানের রাস্তা ধরে এগোলেই রিসোর্টের পথ। রিসোর্টে ঢোকার প্রবেশপথের পাশেই সবুজ টিলা দেখতে পাবেন। টিলার চূড়ার ওঠার প্রবেশ পথ আর একপাশে টয় ট্রেনের লাইন। দূর থেকে চোখে পড়বে টিলার ওপরে ছোট ছোট নিবাস আর কটেজ। রিসোর্টের প্রথমেই ৩ তলা বিশিষ্ট একাশিয়া রেস্টুরেন্ট। দ্বিতীয় তলায় খাবারের ঘর। এর পাশে রয়েছে ৪০ জন একত্রে মিটিং করতে পারেন এমন একটি মিটিং রুম।

তৃতীয় তলায় রয়েছে ড্রয়িং রুম, লিভিং রুম আর লাইব্রেরি। প্রতিটি তলাই নান্দনিকভাবে সাজানো। প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের সুব্যবস্থা।

একাশিয়া রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে অল্প একটু হাঁটলেই পাবেন বিশ্রাম নিবাস। অর্থাৎ থাকার ঘর। ওপরে উঠলেই চোখে পড়বে বনাক কোর্ট। চারপাশ সবুজে ঘেরা। একটু দূরে সুরমা নদী। থাকার জায়গাটা বেশ খোলামেলা। সাজানো-গোছানো ও  পরিপাটি। থাকার রুম সংলগ্ন বারান্দা। বারান্দার ওপরে টিনের চাল দেওয়া। বৃষ্টির শব্দ শোনার জন্যই এই ব্যবস্থা। রুমের ছাদে ওঠারও ব্যবস্থা আছে। রিসোর্ট-জুড়েই আপনি দেখতে পাবেন ভাস্কর্য, নানা ধরনের পেইন্টিং দিয়ে সাজানো। রিসোর্টটিতে রাতে থাকলে সিলেটের সংাস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গেও পরিচিত হতে পারবেন। আছে বাউল গান ও মনিপুরী নৃত্যের ব্যবস্থা। রিসোর্টের খাবারেও পাবেন সিলেটের আঞ্চলিক ছোঁয়া।

রিসোর্ট সম্পর্কে

শুকতারায় মোট ১১টি কটেজ পাবেন। দেশীয় ফুলের নামে এর নাম। নয়নতারা, বরুণ, শিরীষ, দোলনচাপা, মাধবীলতা, কামিনী, জুঁই, করবী, শিমূল, হিজল এ-রকমই নাম। এই রিসোর্টের সব আসবাবপত্রই সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বেত দিয়ে তৈরি। থাকার জায়গাগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বাথরুমে গিজারের ব্যবস্থা আছে। নিজের হাতেই চা কফি বানিয়ে খেতে পারবেন। লাইব্রেরি থেকে বই পেপার পত্রিকা নিয়ে পড়তে পারবেন। বড় পর্দার টিভিতে খেলা দেখতে পারবেন। সব সেমিনার পার্টি সব কিছু এখানে আয়োজনের ব্যবস্থা আছে। রিসোর্টের একটি কটেজের ছাদের নাম সাঁঝের মায়া।যেখানে বসে জোছনা উপভোগ করতে পারবেন আর এর সঙ্গে দেখতে পারবেন মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা পাহাড়ের সারিমালা। এই রিসোর্টে উঠে আপনি চাইলে গাইডের সাহায্য নিয়ে সিলেটের বিভিন্ন চা বাগান, জৈন্তাপুর রাজবাড়ি, লালাভাল, সারি নদী, জাফলং, পিয়াইন নদী, তামাবিল-ডাউকি সীমান্ত, মাধবকু- জলপ্রপাতসহ অন্যান্য জায়গা ঘুরে দেখতে পারবেন।

কেমন খরচ হবে

রিসোর্টটিতে বিভিন্ন ধরনের কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে। অবস্থান ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ায় পাওয়া যায়। হিল ভিউ অংশে এসি সুবিধাসম্পন্ন লার্জ স্যুইট ‘মাধবীলতা’ ও ‘করবী’ এবং সেমি স্যুইট (ডিলাক্স) ‘পলাশ’ ও ‘শিরীষ’-এর প্রতিটি কক্ষের ভাড়া ১০ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া ‘বরুণ’, ‘নয়নতারা’, ‘দোলনচাঁপা’ ও ‘শিমুল’ সেমি স্যুইটের ভাড়া ৯ হাজার টাকা এবং আন্তঃসংযুক্ত দরজাসহ ফ্যামিলি স্যুইট ‘জুঁই’ ও ‘কামিনী’-এর ভাড়া ৯ হাজার ৫০০ টাকা। নন-এসি স্ট্যান্ডার্ড কক্ষ ‘হিজল’-এর ভাড়া ৪ হাজার টাকা।

ফরেস্ট ভিউ অংশে এসি-সুবিধাসম্পন্ন সুপিরিয়র ডিলাক্স কক্ষ ‘ঊষা’ ও ‘আলো’-এর ভাড়া ৮ হাজার টাকা। ট্রিপল অকুপেন্সির ডিলাক্স কক্ষ ‘জোনাকি’, ‘প্রজাপতি’, ‘রবি’, ‘শশী’, ‘গোধূলি’, ‘কুয়াশা’ ও ‘শিশির’-এর প্রতিটির ভাড়া ৭ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে নন-এসি ইকোনমি কক্ষ ‘প্রভাত’ ও ‘পাখি’-এর ভাড়া ৩ হাজার ২০০ টাকা।

এছাড়া সুইমিং পুল ভিউ অংশে অবস্থিত এসি-সুবিধাসম্পন্ন স্টুডিও স্যুইট ‘ঝরনা’-এর ভাড়া ১১ হাজার টাকা। ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও আকাশপথে সরাসরি সিলেট যাওয়া যায়। সড়কপথে বিভিন্ন কোম্পানির এসি বাসে ভাড়া পড়বে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। আর নন-এসি ভাড়া ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা।

শুকতারার ফোন নম্বর ০১৭৬৪৫৪৩৫৩৫, ০১৭৪৫৫০০৭৬৬, ০১৭২১২৫৮৬৩৮, ০১৭৫৭১৫৪৫২১।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত