রেকর্ড গড়ে বল দখলে রাখল ইংল্যান্ড। পুরো ম্যাচে আক্রমণের পর আক্রমণ করেও ভাঙা গেল না প্রতিপক্ষের রক্ষণদুর্গ। ২০২৬ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য (০-০) ড্রয়ের পর ইংলিশ কোচ থমাস টুখেল অকপটেই স্বীকার করলেন, তার কোচিং ক্যারিয়ারে দেখা অন্যতম সেরা এবং সবচেয়ে কঠিন রক্ষণাত্মক ফুটবলের মুখোমুখি হতে হয়েছে তার দলকে। ঘানার সেই রক্ষণভাগকে যেন ‘চীনের প্রাচীর’-এর সাথেই তুলনা করলেন এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড।
ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (২৩ জুন) গ্রুপ ‘এল’-এর ম্যাচে ঘানার মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়া থ্রি-লায়ন্সরা এই ম্যাচে পরিষ্কার ফেবারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল। ম্যাচের পরিসংখ্যানও বলছে ইংল্যান্ডের একচেটিয়া দাপটের কথা। পুরো ম্যাচে ৭৮.৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেছিল ইংলিশরা। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচ গোল না করে এত বেশি সময় বল দখলে রাখার রেকর্ড আর কোনো দলের নেই।
কিন্তু মাঠের এই একতরফা আধিপত্যও কাজে আসেনি ঘানার জমাট ডিফেন্স ও শারীরিক ফুটবলের সামনে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঘানাকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে টুখেল বলেন, "ওরা যেভাবে অবিচলতা, চরম শৃঙ্খলা এবং অবিশ্বাস্য শারীরিক শক্তি দিয়ে রক্ষণভাগ সামলেছে— কোনো দলের এমন ডিফেন্সিভ পারফরম্যান্স আমি খুব কমই দেখেছি। ম্যাচ জেতার জন্য আমাদের যথেষ্ট সেট-পিস ছিল, কিন্তু আমরা সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি।"
প্রথম ম্যাচের সেই নান্দনিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখতে না পেয়ে সমর্থকরা কিছুটা হতাশ হতে পারেন, তা মেনে নিয়েছেন টুখেল। তবে ভক্তদের আশা না হারানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "যখন একটি দল পুরোপুরি নিচে নেমে রক্ষণাত্মক ব্লক তৈরি করে (ডিপ ব্লক), তখন জায়গা খুঁজে নেওয়া এবং সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। খেলাটি দেখতেও হয়তো তখন বিরক্তিকর লাগতে পারে। আমরা সবসময় দর্শকদের বিনোদন দিতে চাই, আজ তা কঠিন ছিল। তবে আশা করি সমর্থকরা বিশ্বাস হারাবেন না, বিশ্বকাপ অনেক লম্বা পথ।"
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে গোল করার সবচেয়ে সহজ সুযোগটি হাতছাড়া করেন খোদ ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বদলি নামা নিকো ও'রাইলির হেড বারে লেগে ফিরে আসলে একদম ফাঁকায় বল পেয়ে যান কেইন। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে তিনি বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন। কেইনের এই মিস নিয়ে টুখেল বলেন, "১০০ বারের মধ্যে ৯৯ বারই কেইন এই সুযোগে গোল করবে। টুর্নামেন্টের বাকি সময়ে ও এমন সুযোগ আর মিস করবে না।"
ঘানার বিপক্ষে ১ পয়েন্ট পেলেও ২ ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপ থেকে নক-আউট বা শেষ ১৬-র টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে ইংল্যান্ড। আগামী শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামার মুখোমুখি হবে টুখেলের শিষ্যরা।
নেইমারকে নিয়ে সুখবর দিতে গিয়ে আনচেলত্তির রসিকতা