স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ফলে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। সাথে পড়াশোনায় মনোযোগ এবং প্রাণচাঞ্চল্যও ফিরেছে।
এই ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টিহীনতা রোধে বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে সিদ্ধ ডিম, বনরুটি, দুধ, কলা ও বিস্কুট।
মতলব উত্তর উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশার প্রোগ্রাম ম্যানাজার তসনিম আলম জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে আমরা খাবার পৌঁছে দিয়ে থাকি। গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখতে টেকনিক্যাল কর্মকর্তা যাচাই বাছাই করে থাকেন। এই প্রকল্পের ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন খুশি তেমনি শিক্ষাক্ষেত্রে দারুণ প্রভাব ফেলছে। কোনো অভিযোগ আসলে আমরা সেটি তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করি।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা ইসলাম বলে, আমি এখন নিয়মিত স্কুলে আসি এবং স্কুল শুরু হওয়ার আগেই এখানে পৌঁছি। বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, বিস্কুট, কলা ও দুধ পেয়ে থাকি বিভিন্ন দিন।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষাধী রাবেয়া আক্তার বলে, স্কুলে খাবার থাকলেও কোনো সমস্যা হয় না। দুপুরে খাবার পেয়ে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
অভিভাবক আছমা আক্তার বলেন, এখন ঝড় বৃষ্টি যাই হোক বাড়িতে আর থাকতে চায় না, ছাতা নিয়ে হলেও বিদ্যালয়ে দিয়ে আসতে হয়। পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে। আগে স্কুলে পাঠাতে নানা সমস্যা হতো।
ওটারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশিকুজ্জামান জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসুচি চালু হওয়ার পর থেকে উপস্থিতি বেড়েছে। শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি উপস্থিতি এখন। বিদ্যালয়ে যেমন ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য তেমনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মতলব উত্তর উপজেলার ১১৮ প্রাইমারি স্কুলে ২৬ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হারুনুর রশিদ জানান, এই কর্মসূচির ফলে এখন একটা পরিবেশ এসেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার আগ্রহ বাড়া এবং শিক্ষার গুণগত মানও বাড়বে।