কোটি টাকার সড়কে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

যে সড়ক দিয়ে মানুষের স্বপ্ন এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেই সড়কই হয়ে উঠেছে দুর্ভোগ আর ক্ষোভের প্রতিচ্ছবি। কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে সড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এখন কাদাপানি আর জলাবদ্ধতার এক নীরব অভিশাপ।

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় পুরো সড়ক, থেমে যায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। স্কুলগামী শিশুদের কাদা মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আর হাজার হাজার পোশাককর্মী দুর্দশা মাথায় নিয়ে জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুনে যে মানুষ স্বস্তির স্বপ্ন দেখেছিল, এখন তাদের কণ্ঠেই উচ্চারিত হচ্ছে হতাশা আর ক্ষোভ এ কেমন উন্নয়ন, যেখানে জনগণের ভাগ্যে জুটেছে শুধু দুর্ভোগ আর দীর্ঘশ্বাস!

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার মহাল খান বাজার এলাকায় শাহ মোহছেন আউলিয়া সড়কের ১৬০ মিটার অংশ দুই ফুট উঁচুতে আরসিসি ঢালাই দেওয়ায় এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করায় সড়কের বাকি অংশে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক এখন অনেকটাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলার শাহ মোহছেন আউলিয়া সড়কের মহাল খান বাজার এলাকায় ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬০ মিটার অংশ আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। কিছুদিন আগে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখনও যান চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করা হয়নি। তবে খুব শিগগিরই সবধরনের যান চলাচলের জন্য এ সড়ক খুলে দেওয়া হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মিত সড়কের একাংশ দুই ফুট উঁচু হওয়ায় বন্দর কমিউনিটি সেন্টারের দিকে প্রায় ৫০ ফুট সড়ক বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। সড়কটির দুই পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির চাপ বাড়লে সড়কের দুই পাশে থাকা দোকানেও উঠে যায় কাদা পানি। এতে চলাচলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

কোরিয়ান ইপিজেডের পোশাক শ্রমিক শওকত হোসাইন জানান, ইপিজেডে অন্তত ৩৫ হাজার শ্রমিক আছে। অধিকাংশ শ্রমিক এ সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। তবে সড়কটি সবসময় পানিতে ডুবে থাকায় তাদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মানুষের কষ্ট দূর করতে সড়ক নির্মাণ হলেও পানিই এখন কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, সড়ক নির্মাণের সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা ছিল। স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে সেটি আর হয়নি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য নিয়ে যাওয়া নির্মাণ সামগ্রী ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে এটি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত