গ্যালারির ৯০ শতাংশজুড়েই ছিল হলুদের জোয়ার। মাঠেও একের পর এক আক্রমণ। কিন্তু কলম্বিয়ার সেই চেনা আগ্রাসন বারবার ধাক্কা খাচ্ছিল লে হাভ্রেতে খেলা কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির জাদুকরী গ্লাভসে। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটেই হামেস রদ্রিগেজ ও লুইস দিয়াজদের অন্তত চারটি নিশ্চিত সুযোগ নসাৎ করে কলম্বিয়ানদের জন্য রাতটিকে চরম হতাশার বানানোর হুমকি দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। শেষ পর্যন্ত ড্যানিয়েল মুনিয়সের এক ডিফ্লেক্টেড শটে কঙ্গোর লড়াকু প্রতিরোধ ভেঙে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করল কলম্বিয়া।
গুয়াদালাহারায় এই ম্যাচের মূল রোমাঞ্চ ছড়ালো দ্বিতীয়ার্ধের শেষভাগেই। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে ডি-বক্সের প্রান্তে যখন কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা পেনাল্টির আবেদনে কিছুটা অপ্রস্তুত, ঠিক তখন ডানপ্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে শট নেন ক্রিস্টাল প্যালেসের রাইট-ব্যাক মুনিয়স। কঙ্গোর ডিফেন্ডার স্টিভ কাপুয়াদির পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বল যখন জালে জড়ায়, তখন এমপাসির কিছুই করার ছিল না। টানা দুই ম্যাচে গোল করা মুনিয়স অবশ্য নিজেকে নায়ক মানতে নারাজ, “শুধু আমি গোল করেছি বলেই আমি হিরো নই। আমরা সবাই মিলে এক পরিবার হিসেবে এই জয় এনেছি।”
ম্যাচটিতে কলম্বিয়ার কিংবদন্তি কার্লোস ভালদেরামা ও ফ্রেডি রিনকনের ১০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছুঁয়েছেন অধিনায়ক রদ্রিগেজ। প্রথমার্ধেই ১৫টি শট নিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখা কলম্বিয়াকে রুখতে দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্সের পাঁচজনের সামনে তিন মিডফিল্ডারের এক দুর্ভেদ্য 'লো ব্লক' দেয়াল তৈরি করেছিলেন কঙ্গোর ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ম্যাচের মাঝপথে লুইস দিয়াজের দুটি দুর্দান্ত গোল অফসাইডের কারণে বাতিল না হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। কলম্বিয়ান কোচ নেস্তর লরেঞ্জো বলেন, “কঙ্গোর মতো সুশৃঙ্খল দলের বিপক্ষে লাইনের মাঝখানের ফাঁকা জায়গাগুলো খুঁজে বের করতে হয়। আমরা আজ সেটাই করেছি।”
মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্যালারির মূল আকর্ষণ ছিলেন কঙ্গোর বিখ্যাত ফুটবল অনুরাগী এবং “জীবন্ত মূর্তি” খ্যাত মিশেল কুকা এমবোলাদিঙ্গা। এবোলা ভাইরাসের কোয়ারেন্টিন জটিলতায় প্রথম ম্যাচ মিস করলেও এই ম্যাচে চিতা বাঘের চামড়া পরা বডিগার্ডসহ রঙিন স্যুটে গ্যালারিতে হাজির হয়ে পুরো স্টেডিয়ামের করতালি কুড়ান তিনি।
টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে চলে যাওয়া কলম্বিয়া পরের ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। অন্যদিকে, উজেবেকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয়ের ওপরই টিকে থাকবে কঙ্গোর ভাগ্য। কঙ্গো কোচ দেসাব্রে অবশ্য এখনো ইতিবাচক, “আমরা গ্রুপের সেরা দুই দলের বিপক্ষে লড়েছি। এখন শেষ ম্যাচে আমাদের ভিন্ন কৌশল নিয়ে খেলতে হবে।”