পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে রাবি নৃবিজ্ঞান বিভাগে তালা

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

ক্লাসে উপস্থিতি কম থাকায় নন-কলোজিয়েট হওয়া ১১ শিক্ষার্থীকে বিশেষ বিবেচনায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার (২৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভাগের সামনে তালা ঝুলিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। 

এ ছাড়াও শিক্ষার্থীরা সেশনজট নিরসন, ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা এবং একাডেমিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানোর দাবিও জানান। 

শিক্ষার্থীরা জানান, বিভাগের ১১ জন শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশের কম হওয়ায় চলমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। তবে তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংকটের পেছনে বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক নানা জটিলতাও দায়ী। তাই বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সেশনজট, ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং একাডেমিক কার্যক্রমের ধীরগতির স্থায়ী সমাধানের দাবিও জানান তারা। 

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় তাদের শিক্ষাজীবন অনেক পিছিয়ে গেছে। সেমিস্টার কার্যক্রম ও পরীক্ষার ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে উচ্চশিক্ষা, চাকরির প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে বিভাগীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান পাপন বলেন, ‘আমাদের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর কার্যক্রম ব্যাহত হলেও ২০২৪ সালের মধ্যেই অনার্স শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেশনজটের কারণে তা শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এছাড়া ফল প্রকাশের পর প্রায় পাঁচ মাসেও মাস্টার্সের কোনো ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা রুটিন দেওয়া হয়নি। বিভাগের পক্ষ থেকে কারিকুলাম না থাকার কথা বলা হলেও এতদিনেও কেন কারিকুলাম প্রস্তুত করা হয়নি, সেটিই আমাদের প্রশ্ন।’

তিনি আরও বলেন, সেশনজটের কারণে আমাদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যে সেমিস্টার ছয় মাসে শেষ হওয়ার কথা, সেটি নয় মাস পেরিয়েও শেষ হয়নি। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই।

আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী খালিদ হাসান বলেন, আমাদের বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশের কম হওয়ায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু এর পেছনে বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক নানা জটিলতাও দায়ী। আমরা চাই, বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হোক। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সেশনজট ও ফল প্রকাশে বিলম্বের সমস্যারও স্থায়ী সমাধান করতে হবে। এসব দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি। 

এ বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান কাজি রবিউল আলম বলেন, কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশের নিচে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য নয়। সেই নিয়ম অনুসারেই তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আজ পরীক্ষার শুরুর কথা ছিল। তবে পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা দাবি তোলে, যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না, তাদের সুযোগ না দিলে তারাও পরীক্ষায় অংশ নেবে না।

তিনি আরও বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের জানিয়েছি, বিষয়টি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এককভাবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। মূলত এ বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে তারা আন্দোলন করছে।

উল্লেখ্য, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ, সেশনজট নিরসনে কার্যকর রূপরেখা প্রণয়ন এবং উপস্থিতির স্বল্পতার কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মানবিক বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত