বাঁশ কাটা নিয়ে বিরোধ

কুমিল্লায় বোনের হাতে ভাই নিহত

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বাঁশ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগিনার কিল-ঘুষি ও লাথিতে ইব্রাহিম হোসেন ওরফে মরন (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের পৌঁছইর গ্রামের মধ্যপাড়া হাজী সৈয়দ আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইব্রাহিম হোসেন ওই গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার বোন নাছিমা আক্তারকে (৫০) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি ও বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে ইব্রাহিমের সঙ্গে তার বোন নাছিমা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নাছিমার বিয়ে হয় পাশের বাড়ির কোব্বাত মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই নাছিমা ও তার পরিবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাইদের ওপর অত্যাচার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ছোট ভাই মহিন নাঙ্গলকোট সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে চলে গেলেও ইব্রাহিম পৈতৃক বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।

নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশে একটি বাঁশ কাটেন নাছিমা বেগম। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে ইব্রাহিমের সঙ্গে নাছিমা ও তার ছেলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নাছিমা বেগম, তার স্বামী কোব্বাত আহম্মদ ও ছেলে অলি আহম্মদ মিলে ইব্রাহিমকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এতে তলপেট ও বুকে গুরুতর আঘাত পেয়ে ইব্রাহিম ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ইব্রাহিমের মেয়ে, কলেজশিক্ষার্থী আফরোজা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘ফুফু নাছিমা আক্তার, ফুফা কোব্বাত আলী ও ফুফাতো ভাই অজিউল্লাহ জোরপূর্বক আমাদের বাঁশ কেটে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বাবা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাবার তলপেট, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

আফরোজা আরও অভিযোগ করেন, ফুফু ও তার পরিবার তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। তাদের অত্যাচারে একসময় তারা নানার বাড়ি দৌলখাঁড় ইউনিয়নের আইটপাড়া গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এক বছর আগে পৈতৃক বাড়িতে ফিরে এলেও নির্যাতন কমেনি। মাসখানেক আগেও তার মা জান্নাতুল ফেরদৌসকে মারধর করে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। পরে ঘরের টিন কেটে তাকে উদ্ধার করা হয়। এমনকি চলাচলের রাস্তার পাশে টয়লেট স্থাপন করে কৃত্রিমভাবে দুর্গন্ধময় পরিবেশও সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নাছিমা আক্তারের বিরুদ্ধে অতীতেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯২ সালে তিনি তার দেবর পেয়ার আহম্মদকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারেও পাঠিয়েছিল।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নাছিমা বেগমকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত