সম্ভাব্য উত্তরসূরি বার্নহামের সঙ্গে স্টারমারের বৈঠক

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:১৭ এএম

চরম এক সংকটময় পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ রাজনীতি। গত এক দশকে ৬ জন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেও, পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে পারেননি। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এর পেছনে বড় কারণ হলেও, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতভেদও মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। সবশেষ গত সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে গত সপ্তাহে মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে জয় পাওয়া অ্যান্ডি বার্নহামকে। যদি আর কেউ লেবার পার্টির নেতৃত্বে আসার জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা না করেন, তবে বার্নহাম আগামী ১৭ জুলাই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। গতকাল বুধবার বিবিসি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্টারমার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে ‘সুশৃঙ্খল’ রাখার লক্ষ্যে এমন বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

স্টারমার ও বার্নহামের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা এ বৈঠকের খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উপনির্বাচনে বিজয়ের পর স্টারমার ও বার্নহামের মধ্যে এটিই প্রথম বৈঠক। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে ক্ষমতা হস্তান্তর, সরকার পরিচালনার প্রস্তুতি এবং নেতৃত্ব পরিবর্তন-পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রার্থীদের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা শুরুর অনুমোদন দিয়েছেন স্টারমার। নতুন নেতৃত্ব যাতে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিগত বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

বার্নহামের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী র‌্যাচেল রিভসকে মন্ত্রিসভায় রাখতে পারেন। তবে কোন পদে রাখা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বার্নহামের মুখপাত্রও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন। র‌্যাচেল রিভসের উত্তরসূরি হিসেবে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে কারা আসতে পারেন, তা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন এড মিলিব্যান্ড, ওয়েস স্ট্রিটিং, জন হিলি ও ইভেট কুপার। এ ছাড়া বার্নহামের ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে সাবেক মন্ত্রী জেমস পার্নেলকে ডাউনিং স্ট্রিটে চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। গর্ডন ব্রাউনের সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী পরবর্তী সময়ে বিবিসির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ফ্লিন্ট গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত