ইরানের জব্দকৃত ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম

উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত অবসানে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতে আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত রবিবার সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন হ্রদের তীরে অবস্থিত বিলাসবহুল বুর্গেনস্টক রিসোর্টে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রথম দফার আলোচনার পর অগ্রগতির দাবি করেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরানের জব্দ থাকা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার (১২ বিলিয়ন) সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, এই ছাড়কে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে এবং দুই দেশের মধ্যে হওয়া বৃহত্তর সমঝোতা স্মারকের তাৎক্ষণিক ফলাফল হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গালিবাফ জানান, ৬০০ কোটি করে দুই ধাপে এই অর্থ পাবে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই অর্থ জব্দ অবস্থায় ছিল। তিনি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরান যে প্রধান অর্জনগুলো নিশ্চিত করেছে, তহবিল ছাড় তার মধ্যে অন্যতম। চুক্তি সইয়ের পর একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। ইরানের তেল খাত প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে এসেছে বড় পরিবর্তন। আগের নীতি থেকে বের হয়ে এসে ইরানের তেলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গালিবাফ জানান, চুক্তির আওতায় কয়েকটি খাতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল রপ্তানি, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট উপজাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার থাকবে। এ সুবিধা ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন খাতেও প্রযোজ্য হবে বলে জানান তিনি।

গালিবাফের মতে, বৃহত্তর এই সমঝোতার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে সহায়তা করবে। তবে গালিবাফ স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আর কখনো যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। হরমুজ প্রণালি ইরানের ব্যবস্থাপনাতেই পরিচালিত হবে এবং সেখানে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করা হবে। গালিবাফ বলেন, আশা করছি আমরা আবারও প্রণালিটি চলাচলের জন্য সক্রিয় করতে পারব এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে পারব। লেবানন প্রসঙ্গে গালিবাফ জানান, সমন্বয়ের জন্য কমিটি গঠনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। এই কমিটি যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তিতে কাজ করবে। এ ছাড়া পুনরায় যুদ্ধ শুরু না হওয়া, বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ও ইসরায়েলের দখলকৃত এলাকাগুলো খালি করতে কাজ করবে এই কমিটি। এদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনে ইরান আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থাকে অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত মানতে তেহরানকে বাধ্য করার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যদি চুক্তি মেনে না চলে বা ঠিকমতো আচরণ না করে, তাহলে যা কিছু করা প্রয়োজন আমরা তা-ই করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত