মদ্রিচের ২০০

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

টরন্টোর লেক ওন্টারিও স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে ট্রাউজারের ওপর কালো টি-শার্ট চড়িয়ে ২৫ জন ক্রোয়াট ফুটবলার যখন শূন্যে ছুড়ে মারছিলেন তাদের অধিনায়ককে, তখন চারপাশের গ্যালারি গাইছিল বিদায়ের সুর ‘ওয়ান লাস্ট ড্যান্স’। সেই টি-শার্টে লেখা ছিল ‘ইনফিনিট লেগ্যাসি’ বা অনন্ত উত্তরাধিকার। ২০০৬ সালের ১ জুন আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হওয়া সেই তরুণ আজ ৪০ বছরের বুড়ো, অথচ এখনো তিনিই আলকেমিস্ট। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২৩০), বদর আল-মুতাওয়া (২০২) এবং লিওনেল মেসির (২০১) পর ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ পুরুষ ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০তম ম্যাচের অনন্য মাইলফলক ছুঁলেন লুকা মদ্রিচ।

তবে মদ্রিচের এই ঐতিহাসিক রাতটি অবশ্য বিষাদে রূপ নিতে পারত, যদি না দ্বিতীয়ার্ধে আন্তে বুদিমির ত্রাণকর্তা হয়ে এগিয়ে আসতেন। তার করা সেই একমাত্র গোলেই পানামাকে হারায় ক্রোয়েটরা। এতে বেঁচে থাকল নকআউটের স্বপ্ন।

প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ গোলে হেরে খাদের কিনারায় থাকা ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচজুড়ে আটকে রেখেছিল পানামার ৫-৪-১ ফরমেশনের দুর্ভেদ্য দেওয়াল। উল্টো ২৩ মিনিটে জোসে লুইস রদ্রিগেজের বুলেট গতির হেড ক্রোয়াট প্রাচীর ডমিনিক লিভাকোভিচ বারে লাগিয়ে না ঠেকালে গল্পটা অন্যরকম হতো। প্রথম অর্ধেকের চেনা ছন্নছাড়া ভাব কাটাতে বিরতির পরেই জোসকো গভার্দিওলকে তুলে নিয়ে আক্রমণাত্মক জুয়া খেলেন দালিচ।

সেই কৌশলই বাজিমাতে রূপ নেয় ৫৩ মিনিটে। মার্কো পাসালিচের চোখ ধাঁধানো ব্যাকহিল থেকে বল পেয়ে রাইট-ব্যাক জোসিপ স্টানিসিচ ডানপ্রান্ত থেকে এক নিখুঁত ক্রস বাড়ান। কঙ্গোর রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে চলন্ত বলের মাথায় আলতো ছোঁয়ায় ক্যানভাসে শেষ তুলির টান দেন সদ্য বদলি নামা স্ট্রাইকার বুদিমির। লিডে ক্রোয়েটরা। তবে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে মরিয়া পানামাও পাল্টা ছোবল দিতে চেয়েছিল, কিন্তু ৬৮ মিনিটে কার্লোস হার্ভের হেড লিভাকোভিচের বিশ্বস্ত গ্লাভসে আটকে গেলে নিশ্চিত হয়ে যায় সেন্ট্রাল আমেরিকার দেশটির বিদায়।

স্বস্তির জয় শেষে ম্যাচের পোস্টার বয় মদ্রিচকে নিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ক্রোয়েট কোচ দালিচ। তাকে নিয়ে দালিচ বলেন, ‘লুকা বড্ড বিনয়ী, ও এত বড় উদযাপন পছন্দ করে না। কিন্তু আজ ৪০ বছর বয়সেও ও যেভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করল, তা অবিশ্বাস্য। ও ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা হিসেবেই অমর হয়ে থাকবে।’

অন্যদিকে ভাগ্যকে দোষ দিয়ে পানামা কোচ টমাস ক্রিস্টিয়ানসেন বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা একটা ভালো ম্যাচ খেলেছি, কিন্তু প্রাপ্তির খাতাটা বড্ড শূন্য রইল। একটা সিঙ্গেল প্লে-তেও আমাদের ভাগ্য সহায় ছিল না এবং ওরাই গোলটা পেয়ে গেল। তবে এটাই ফুটবল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত