'বুক কাঁপছিল, ভীষণ নার্ভাস ছিলাম'— ৯৮১ দিন পর মাঠে ফিরে জানালেন নেইমার

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ১১:২৪ এএম

প্রায় এক হাজার দিন (৯৮১ দিন) পর ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার অনুভূতি কেমন ছিল? স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ হতেই মাঠের ভেতর আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমারকে। শুধু মাঠেই নয়, পরবর্তীতে ড্রেসিং রুমের একান্ত মুহূর্তেও তার চোখে জল আসে। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরার এই তীব্র আবেগ যেন কোনোভাবেই ধরে রাখতে পারছিলেন না এই তারকা ফরোয়ার্ড।

২৪ জুন তারিখটিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ দিন হিসেবে উল্লেখ করে এবং ম্যাচ শেষে সাবেক ব্রাজিলিয়ান তারকা ডেনিলসনের (টিভি গ্লোবো) সাথে আলাপকালে নিজের মনের অবস্থা লুকিয়ে রাখেননি নেইমার। মিক্সড জোনে এসে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, মাঠে নামার ঠিক আগে তিনি কতটা নার্ভাস ছিলেন।

নেইমার বলেন, "বুকটা দুরুদুরু কাঁপছিল, ভীষণ নার্ভাস লাগছিল... তবে একই সাথে আমি অত্যন্ত আনন্দিত! আমি গর্বিত যে সবকিছু ঠিকঠাকভাবে শেষ হয়েছে।"

ডেনিলসন যখন তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন করেন, "১০০ ভাগ ফিট তো?" তখন হাসিমুখে নেইমারের তাৎক্ষণিক জবাব ছিল, 'একদম ১০০ ভাগ, ১০০ ভাগ!'

দলের সঙ্গে বিশ্বকাপে এলেও প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। মাঠে ফেরার তীব্র তাড়না ও পেছনের মানসিক লড়াইয়ের কথা জানিয়ে মিক্সড জোনে তিনি বলেন, 

"আমি অবশ্যই এই দিনটিকে আমার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করব। কারণ ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সি পরা প্রতিটি ছেলের স্বপ্ন। দীর্ঘ সময় পর চোট কাটিয়ে আমি এই জার্সিতে ফিরেছি। মাঠ থেকে দূরে থাকার সময়টায় এটিকে ভীষণভাবে মিস করেছি। আজ প্রায় তিন বছর পর ফিরতে পেরে আমি খুবই সুখী এবং আবেগাপ্লুত।"

খেলা শেষে কাদছিলেন নেইমার

ড্রেসিংরুমের সেই আবেগঘন মুহূর্ত নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "ড্রেসিংরুমে একা বসে কেঁদেছি। কারণ আবার মাঠে ফিরতে পারা ছিল এক বিশাল স্বস্তি। জাতীয় দলের হয়ে খেলা এবং বিশ্বকাপ জেতা সবসময় আমার স্বপ্ন। আমাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য প্রতিটি ব্রাজিলিয়ান সমর্থক ও আমার পরিবারকে ধন্যবাদ।"

শেষ ১৫ মিনিটে নেইমার ম্যাজিক

২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বাঁ-পায়ে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন নেইমার। এরপর কাতার ও হাইতির বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে বেঞ্চে থাকার পর, অবশেষে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে তাকে মাঠে নামান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

১৫ মিনিট মাঠে থেকে সবকিছু করেছেন নেইমার

ব্রাজিল তখন ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে। মাঠে কাটানো শেষ ১৫ মিনিটে নেইমারকে খুব বড় কোনো চমক দেখাতে না হলেও সতীর্থরা বারবার তাকে বল বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন। দলের ফ্রি-কিক এবং কর্নার নেওয়ার মূল দায়িত্বও এই ১৫ মিনিট তিনিই সামলেছেন। নেইমার মাঠে নামার সাথে সাথেই গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো ব্রাজিলিয়ান সমর্থক উল্লাসে ফেটে পড়েন।

গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে ব্রাজিল এখন নকআউট পর্বে। আর সামনে থাকা এই কঠিন লড়াই নিয়ে সতীর্থদের সতর্কবার্তা দিয়ে নেইমার বলেন:

"মাঠই আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। এখন থেকে ম্যাচে ছোট ছোট ভুলও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। যে দল কম ভুল করবে, তারাই এগিয়ে যাবে। সামনে কঠিন ম্যাচ আসছে, তবে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।"

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত