৫২ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মহামঞ্চে ফেরা। গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষ হিসেবে ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড আর মরক্কোর মতো পরাশক্তিরা। শক্তির বিচারে অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন স্রেফ উড়ে যাবে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র হাইতি। তবে টুর্নামেন্ট থেকে সবার আগে বিদায় নিশ্চিত হলেও মাঠের লড়াইয়ে যে অদম্য জেদ আর লড়াকু মনোভাব তারা দেখিয়েছে, তা ফুটবল বিশ্ব দীর্ঘদিন মনে রাখবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে হারলেও মরক্কানদের যেভাবে তারা কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তাতে স্পষ্ট; বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা তারা মাঠের লড়াইয়েই অর্জন করেছে।
আটলান্টা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন ঝুলছিল একটি ব্যানার, যাতে লেখা ছিল ‘আমরা আবারও ফিরব’। সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেছে মাঠের খেলায়। আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে দুই-দুইবার লিড নিয়েছিল হাইতি। প্রথমার্ধের সেই ৪৫ মিনিট ছিল চলতি বিশ্বকাপের হাইতির পক্ষ থেকে অন্যতম সেরা ফুটবলীয় বিনোদন। এর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ তে এবং স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে লড়ে হেরেছিল তারা।
ম্যাচ শেষে হাইতির ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে বুক চিতিয়ে বলেন, “আমরা প্রমাণ করেছি যে আমরা এখানে কারও জায়গা চুরি করে আসিনি। আমরা এই মঞ্চের যোগ্য দাবিদার ছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত ভক্তদের অন্তত একটি পয়েন্ট দিতে পারলাম না, তবে আমরা দেখিয়েছি ৫২ বছর পর আমাদের এই যোগ্যতা অর্জন সার্থক ছিল।”
নিজেদের দেশে অপরাধ চক্রের সহিংসতার কারণে হাইতিকে তাদের সব বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে হয়েছে বিদেশের মাটিতে। এমনকি দলের কোচ মিগনে নিরাপত্তার কারণে এখনো হাইতি ভ্রমণ করতে পারেননি। দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় প্রবাসী এবং গ্যালারিতে যারা গলা ফাটিয়েছেন, তারাও মূলত আমেরিকায় বসবাসরত হাইতিয়ান। দেশের এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে দুই গোল করার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছে দলটি। ১৫ বছর ধরে দলের গোলবার সামলানো ৩৮ বছর বয়সী বিদায়ী অধিনায়ক ও গোলরক্ষক জনি প্লাসাইড মরক্কোর বিপক্ষেও করেছেন চোখধাঁধানো বেশ কিছু সেভ। বিদায়লগ্নে কোচ মিগনের চোখ এখন আগামী বিশ্বকাপে, “আমরা আরও উন্নতি করব এবং আগামী ৪ বছর পর আবার এই মঞ্চে ফেরার জন্য কাজ করে যাব।”