অর্থমন্ত্রী

বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমান সরকারের জন্য বড় দায়

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০২:২৭ পিএম

বিগত সরকারের আমলে নেওয়া প্রায় ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের দায় বা লায়াবিলিটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত ‘ডিবেটিং বাজেট অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা জানান। রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আয়োজিত এই সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বর্তমান অর্থনীতির জটিল চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে ১৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্প পেয়েছি, যা এখন আমাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দেখা দিয়েছে। এগুলোর অনেক প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তাই এগুলো পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়, আবার এগিয়ে নেওয়াও কঠিন। যেন ‘না পারছি গিলতে, না পারছি ফেলতে’ এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে সরকার কাজ করছে। বিগত ১৫ বছরের প্রকল্পগুলো দেশের আর্থিক সক্ষমতাকে সংকুচিত করে দিয়েছে।

বর্তমান সরকারের বাজেট দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’। অর্থমন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে অর্থনীতি মূলত পৃষ্ঠপোষকতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যেখানে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীই সব সুযোগ পেত। প্রান্তিক মানুষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিল। বর্তমান সরকার এখন কামার, কুমার, কুটির শিল্পী, তাঁতী ও গ্রামের নারীদের অর্থনৈতিক মূলধারায় আনার চেষ্টা করছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করার মতো কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলা করেও কৃষকদের সার ও বীজের মতো মৌলিক সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সর্বজনীন প্রাথমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের সঞ্চয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্য যেমন শীতলপাটি, মৃৎশিল্প ও তাঁতশিল্পকে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার কাজ করছে। পূর্বাচলে একটি থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট গড়ার পরিকল্পনার মাধ্যমে মিউজিক, থিয়েটার ও ফিল্ম শিল্পকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করারও লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও বাড়াতে এবং পাবলিক ফাইন্যান্সিংয়ের চাপ কমাতে পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর অর্থমন্ত্রী জোর দেন। তিনি জানান, সম্পূর্ণ পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রাখা হয়নি। এই কাঠামোগত সংস্কারের খবরে জেপি মরগ্যানসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফান্ড ম্যানেজাররা বাংলাদেশে বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটি দেশের ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির স্বপ্নপূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করছে। অর্থমন্ত্রী জানান, প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে একটি ‘ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড’ ব্যবহার করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও দপ্তরে এই ড্যাশবোর্ড থাকবে। প্রকল্পের কাজের গতি থমকে গেলে বা কোনো অনিয়ম হলে তা সাথে সাথে ড্যাশবোর্ডে ফ্ল্যাশ করবে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। সরকার অন্তত ৮০ শতাংশ বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত