গাজীপুরের শ্রীপুরে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ১১০০ জনকে আসামি করে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাশকতার আশঙ্কায় ওই এলাকার পাঁচটি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে পৌরশহরের কেওয়া ও মাওনা এলাকার বিভিন্ন কারখানায় দফায় দফায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে একই দিন সকালে টেপিবাড়ি গ্রামের ‘কালার অ্যান্ড কোং’ পোশাক কারখানায় রাতের শিফটে কর্মরত সুইং অপারেটর লিজা আক্তার (৩৫) অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু অতিউৎসাহি শ্রমিক ও বহিরাগতরা উত্তেজিত হয়ে আশপাশের পাঁচটি কারখানায় লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় কাভার্ডভ্যান, অফিস কক্ষ, দরজা-জানালা, চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে টেপিবাড়ি গ্রামে কালার অ্যান্ড কোং কারখানার সামনে সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অন্তত ৩ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় বিক্ষোভ তুলে নেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে, তবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের শান্ত পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করতে ও নাশকতার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে দোষীদের শনাক্তের অভিযান চলছে।
হামলার শিকার ‘ট্রিপল অ্যাপারেলস’-এর অ্যাডমিন অফিসার শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার আচমকা একদল (২০০-৩০০ জন) লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এরা সবাই বহিরাগত ছিল। অন্য একটি কারখানারা দুর্ঘটনার জেরে আমাদেরও হামলার শিকার হতে হয়েছে। এরা সংঘদ্ধ চক্র। কারখানায় ঢুকেই তাণ্ডব চালিয়েছে। শান্ত পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করতেই পরিকল্পিক ভাবেই হামলা চালায় এ চক্রটি। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি করে আমাদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
‘এমএইচসি অ্যাপারেলস’-এর অ্যাডমিন অফিসার মো. ফারুক আহম্মেদ জানান, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই পাঁচশতাধিক লোক কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে ঢুকে পড়ে। পরে তারা প্রত্যেক ফ্লোরে ফ্লোরে গিয়ে ভাঙচুর চালায়। আমাদের নিরাপত্তকর্মীরাও বেশ আহত হয়েছে। গাড়ি দরজা জানালা কম্পিউটারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন আসবাপত্র ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় আমরা মামলা করেছি।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মো. শাহিনুর আলম বলেন, তিনটি কারখানার পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক করে মামলা করা হয়েছে। এরা সবাই দুষ্কৃতকারী। অনেক শ্রমিক আছে তবে বেশির ভাগ শ্রমিক অন্য কারখানা থেকে এসে হামলায় অংশ নেয়। তাদের সাথে বহিরাগরাও ছিল লাঠিসোঁঠা নিয়ে। এরি মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসি টিভি ফুটেজ দেখে ও নানা ভিডিও বিশ্লেষণ করে আসামি শনাক্ত করার কাজ চলছে। পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।