ট্রাম্পের আমলে অভিবাসী আটককেন্দ্রে মৃত্যু বাড়ছে, তদন্ত চায় জাতিসংঘ

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী আটক কেন্দ্রে বন্দিদের মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে অভিবাসীদের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) এক বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, আটক কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া এসব মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে যে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মার্কিন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী এবং অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, পদ্ধতিগত অবহেলা, অমানবিক পরিস্থিতি এবং নির্যাতনের কারণেই আটক কেন্দ্রে বন্দিদের মৃত্যুর এই হিড়িক পড়েছে।

বিবৃতিতে জাতিসংঘের এই শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে বলেন, যারা আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার গ্যারান্টি দিতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে অভিবাসীদের ব্যাপক হারে বহিষ্কারের লক্ষ্যে আটক কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কেন্দ্রের অনেকগুলোই বেসরকারি ঠিকাদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ট্রাম্প শুক্রবার নিজের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেন, তার প্রশাসনই আইসিই ও সিবিপি-এর মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তার করেছে এবং চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ কার্যকরে অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

গত ৪ জুন লুইজিয়ানার একটি বন্দিশালায় মামুকা আরতমেলদজে নামের এক জর্জিয়ান নাগরিকের মৃত্যুর পর চলতি বছরে মোট মৃতের সংখ্যা ১৯-এ দাঁড়িয়েছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৩ এবং ২০২৪ সালে ছিল ১১ জন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের চলতি মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিই-এর হেফাজতে বর্তমানে মৃত্যুর হার গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এই হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান মৃত্যুর হার বাইডেন প্রশাসনের তুলনায় প্রায় চার গুণ এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় আড়াই গুণেরও বেশি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মারা যাওয়া ৫২ জন বন্দির বয়স ছিল ১৯ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে, যারা ২০টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের নাগরিক।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার আরও জানান, আটক কেন্দ্রগুলোতে বলপ্রয়োগের উদ্বেগজনক অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি বছর রেকর্ড করা মৃত্যুর মধ্যে পাঁচটি ঘটনা আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া বন্দিশালাগুলোতে বন্দিদের একা বা নির্জনে আটকে রাখার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। 

জাতিসংঘ বলেছে, একটানা ১৫ দিনের বেশি নির্জনে রাখা এক ধরনের নির্যাতন, যা আত্মহত্যার ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। ভলকার তুর্ক জোর দিয়ে বলেন, এসব বিষয় অভিবাসীদের অসহায়ত্বকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং আইসিই হেফাজতে ঘটে যাওয়া এই মৃত্যুগুলোর অনেকগুলোই প্রতিরোধযোগ্য ছিল কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত