চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথে কোর্টনি–জনি

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করার পর অবশেষে ভেঙে যাচ্ছে ভালোবাসার ঘর। আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী কোর্টনি কক্স এবং মার্কিন সংগীতশিল্পী জনি ম্যাকডেইড। এমন খবরেই এখন সরগরম আন্তর্জাতিক বিনোদন দুনিয়া। 

কোর্টনি–জনির সম্পর্কের শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালে। এক সাধারণ পার্টিতে প্রথম পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, আর সেই বন্ধুত্বই সময়ের সঙ্গে রূপ নেয় প্রেমে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্ক এতটাই গভীর হয়ে যায় যে মাত্র ৯ মাসের মাথায় তারা বাগদান সম্পন্ন করেন। তখন মনে হয়েছিল, এই জুটি খুব দ্রুতই বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবে। 

কিন্তু বাস্তবতা সবসময় এত সরল থাকে না। ২০১৫ সালের শেষ দিকে তাদের বাগদান ভেঙে যায়। ব্যক্তিগত দূরত্ব, মানসিক চাপ, আর পারস্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতি—সব মিলিয়ে সম্পর্কটি তখন বড় ধাক্কা খায়। সেই সময়টা দুজনের জন্যই ছিল আবেগঘন এবং কঠিন একটি অধ্যায়, যেখানে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। 

তবে এখানেই গল্প শেষ হয়নি। ২০১৬ সালে তারা আবারও একে অপরের জীবনে ফিরে আসেন। যদিও এবার আর বাগদান পুনরায় হয়নি, তবুও তারা সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এই পর্যায়ে তাদের সম্পর্ক ছিল আরও পরিণত, আরও শান্ত এবং বোঝাপড়ায় ভরা। তারা আলাদা হয়ে যাওয়ার বদলে একে অপরকে সময় দিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার পথ বেছে নেন। এরপর দীর্ঘ বছর তারা একসঙ্গে থেকেছেন। কখনো প্রকাশ্যে, কখনো ব্যক্তিগতভাবে তাদের সম্পর্ক টিকে ছিল নীরবে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একসঙ্গে তাদের দেখা কমে আসে, তবুও ভক্তদের মধ্যে ধারণা ছিল—এই সম্পর্ক হয়তো শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হবে। 

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইউএস ওপেনে তাদের একসঙ্গে শেষবার জনসমক্ষে দেখা যায়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়তে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে একসঙ্গে ছবি না থাকা, প্রকাশ্যে কম উপস্থিতি—সব মিলিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় যে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো। দীর্ঘ ১৩ বছরের ওঠানামায় ভরা সম্পর্কের ইতি টানলেন কোর্টনি কক্স ও জনি ম্যাকডেইড। যদিও তাদের পক্ষ থেকে বিচ্ছেদের বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি, তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি—দীর্ঘ সময়ের জীবনধারার পরিবর্তন, ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার এবং দূরত্ব এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। 

এই বিচ্ছেদ শুধু একটি সম্পর্কের সমাপ্তি নয়, বরং এক দীর্ঘ যাত্রার শেষ অধ্যায়। যেখানে ছিল প্রেম, ভাঙন, আবার পুনর্মিলন—সবকিছুরই মিশ্রণ। এমন সম্পর্ক শেষ হওয়া স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের জন্য আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত