২৬ দিনের ব্যবধানে ফের কুয়াকাটায় মৃত বেলিন তিমি

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ৫৬ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশালাকৃতির একটি মৃত বেলিন তিমি ভেসে এসেছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১২টার দিকে কাউয়ার চর বসুধা আইল্যান্ড সৈকত সংলগ্ন এলাকা থেকে তিমিটিকে উদ্ধার করেন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরার) সদস্যরা। তিমিটিকে এক নজর দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছেন।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপরার আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, ‘সকালে সৈকতের তীরে পর্যটকদের সেবা দেওয়া স্থানীয় ট্যুর গাইড সদস্য তরিকুল ইসলাম মৃত তিমিটি দেখে আমাদের খবর দেয়। পরবর্তীতে বন বিভাগকে অবহিত করি। মৃত তিমিটির দৈর্ঘ্য ৫৬ ফুট এবং প্রস্ত ১৬ ফুট।

ধারণা করা হচ্ছে সপ্তাহ খানেক আগে এটির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারন এখনো অজানা। 

ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, তিমিটা দেখতে অনেকটা দৈত্যাকৃতির। এর আগে ২০১৮ সালে ১টি ও ২০২২ সালে ১টি এবং চলতি মাসের ৩রা জুন এবং মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও এরকম একটি তিমি কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছিলো। তবে এরকম বার বার ভেসে আসা মৃত তিমি, ডলফিন ও কচ্ছপের মৃত্যু রহস্য উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স ও মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে একটি বিশালাকৃতির বেলিন তিমি ভেসে এসেছে। তিমিটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিমিটি একটি বেলিন তিমি প্রজাতির সদস্য, যারা সমুদ্রের ক্ষুদ্র প্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য অণুজীব ছেঁকে খাদ্য গ্রহণ করে।সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন, অসুস্থতা, খাদ্যের অভাব, জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ অথবা সমুদ্র স্রোতের কারণে বড় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী মাঝে মাঝে উপকূলে ভেসে আসতে পারে। তবে তিমিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

তিমিটির নমুনা সংগ্রহ ও প্রজাতি শনাক্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারে। মৃত তিমিটির যথাযথ সংরক্ষণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য কঙ্কাল সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ইউএনও ইয়াসীন সাদেক জানান, উপরা সবসময়ই উপকূলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করে। তিমিটি পচা গলা অবস্থায় থাকার কারণে বন বিভাগ এবং পৌরসভার সহযোগীতায় মাটি চাপা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যাতে করে কুয়াকাটাতে ঘুরতে আসা পর্যটক এবং বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে না হয়।

বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, তিমিটির প্রজাতি ও মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নমুনা পরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। তিমিটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত