ধৈর্য আর তীব্রতার এক মহাযুদ্ধ

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

৮০ হাজার চড়া কণ্ঠের চিৎকার যখন একসঙ্গে আছড়ে পড়ে এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে, তখন প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের বুক কাঁপাটাই স্বাভাবিক। মেক্সিকো সিটির এই ফুটবল-অগ্নিকুণ্ডে যখন স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইকুয়েডর, তখন লড়াইটা শুধু কৌশলের নয়, স্নায়ু ধরে রাখারও। আর্জেন্টিনা আর ফ্রান্সের মতো বিশ্বসেরাদের পাশে নাম লিখিয়ে এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে আসা একমাত্র দল এই মেক্সিকো। নিজেদের চেনা ডেরায় বসা এই স্বাগতিকদের ইতিহাসও রাজকীয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে ঘরের মাঠে খেলা ১২ ম্যাচের মাত্র একটিতে হেরেছে তারা। আজতেকার এই অভেদ্য দুর্গে দাঁড়িয়ে মেক্সিকানরা যখন শেষ ১৬-এর স্বপ্ন দেখছে, তখন ওপার থেকে একঝাঁক তপ্ত তরুণ নিয়ে হুঙ্কার ছাড়ছে খাদের কিনারা থেকে ফিনিক্স পাখির মতো বেঁচে ফেরা ইকুয়েডর।

দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার অতীত ইতিহাস অবশ্য মেক্সিকোর পক্ষেই কথা বলে। ২৮ বারের দেখায় ১৭ বারই জিতেছে উত্তর আমেরিকার এই পরাশক্তি। তবে এই পরিসংখ্যানের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক জুজু। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে এই ইকুয়েডরের বিপক্ষে পাওয়া ২-১ ব্যবধানের জয়টিই ছিল লাতিন আমেরিকার কোনো দলের বিরুদ্ধে মেক্সিকোর সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর কেটে গেলেও বিশ্বকাপে কোনো সাউথ আমেরিকান প্রতিপক্ষকে হারাতে পারেনি তারা। ফলে কোচ হাভিয়ের আগুয়েরে যেমন চাইবেন ঘরের মাঠে সেই পুরনো ইতিহাস ফিরিয়ে এনে নিজেদের অজেয় যাত্রা ধরে রাখতে, তেমনি ইকুয়েডরের সামনে সুযোগ থাকবে মেক্সিকোর সেই লাতিন-ভীতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার।

অথচ এবারের বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের নকআউটে আসার গল্পটা ছিল খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর। প্রথম দুই ম্যাচে কোনো গোল না পেয়ে যখন বিদায়ের ঘণ্টা বাজছিল, ঠিক তখনই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ ব্যবধানে স্তব্ধ করে দিয়ে শেষ ৩২-এর টিকিট কাটে তারা। বর্তমান ফুটবলে আধুনিক প্রযুক্তির সেরা ব্যবহারকারী এবং অন্যতম সেরা ভিডিও অ্যানালিস্ট হিসেবে পরিচিত ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে তার এই ক্ষুরধার কৌশল দিয়েই আজতেকার চেনা উচ্চতা ও মেক্সিকোর নিখুঁত রক্ষণভাগকে বোকা বানাতে চান। ময়সেস কাইসেদোর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং নিলসন অ্যাঙ্গুলোর সাম্প্রতিক ফর্মই এখন লাতিন দলটির মূল ভরসা।

অন্যপ্রান্তে, মেক্সিকো এখনো টুর্নামেন্টে কোনো গোল হজম করেনি। সেসার মন্তেসের নেতৃত্বে ডিফেন্স লাইন এতটাই জমাট যে গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে মাত্র ৫টি শট অন টার্গেট নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে তারা। স্বাগতিকদের এই নিখুঁত রক্ষণভাগের বিপরীতে ইকুয়েডরের শারীরিক ফুটবল ও হাই-প্রেসিং কৌশলের এই লড়াইকে ফুটবল বিশ্লেষকরা তাই দেখছেন ‘ধৈর্য বনাম তীব্রতা’র এক মহাযুদ্ধ হিসেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত